ডুয়েলগেজ রেললাইনের ওপর দিয়ে ব্রডগেজ এবং মিটারগেজ দুই ধরনের ট্রেনই চলাচল করতে পারে। টাঙ্গাইল, গাজীপুর এবং ঢাকায় ডুয়েলগেজ রেললাইন আছে। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। বাংলাদেশে উত্পাদিত পণ্যের সিংহভাগ এই বন্দর দিয়েই বিদেশে রপ্তানি করা হয়। আবার বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের সিংহভাগ এই বন্দরেই নামিয়ে ট্রেনে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন মিটারগেজ হওয়ায় একবারে বেশি পণ্য আনা যায় না। ফলে বন্দরে কন্টেইনার জট সব সময় লেগে থাকে। অথচ ব্রডগেজ ট্রেনে একবারে মিটারগেজ ট্রেনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি পণ্য অত্যন্ত দ্রুত আনা যায়। ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো অনেক বেশি যাত্রী নিয়ে অত্যন্ত দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। তাছাড়া ব্রডগেজ রেললাইনে দুর্ঘটনা কম ঘটে। মূলত এইসব বিষয় বিবেচনা করেই ঢাকা-চট্টগ্রাম ‘মিটারগেজ’ সিঙ্গেল লাইনকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরেও সিদ্ধান্তটি বহাল ছিল। কিন্ত বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত থেকেহ সরে এসে শুধু মিটারগেজ ডাবল লাইন বসানো শুরু করা হয়েছে। একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা অত্যন্ত দুঃখজনক। সিংহভাগ বৈদেশিক বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পাদিত হয় বলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আর এই কারণেই চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের যোগাযোগ আরো সহজ, নিরাপদ এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে এই রেললাইনটি ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। তবে রেললাইন (স্টিলের রেলসমূহ) বসানোর কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই আগের সিদ্ধান্তে ফিরে যাওয়ার সুযোগ এখনো আছে। শীঘ্রই এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
জাহিদ ইকবাল,
বাসা ৬৯, সড়ক ২১, রূপনগর আবাসিক এলাকা,
পল্লবী, ঢাকা ১২১৬
