তারপরও আশাবাদী মুশফিক

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:০৪
ডুবন্ত মানুষ নাকি খড়কুটো ধরে বাঁচতে চেষ্টা করে। সে খড়কুটোর আশ্বাসও বাংলাদেশের কাছে এতোদিনে হাস্যকর হয়ে যাওয়ার কথা। টানা ১২ ওয়ানডে ধরে জয়ের দেখা না পাওয়া, দফায় দফায় কেলেঙ্কারির সাক্ষী হতে থাকা বাংলাদেশ দলের পক্ষে এখন ইতিবাচক কথা বলাও কঠিন। তারপরও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আশায় বুক বাঁধছেন। বলছেন, অন্তত শেষ ম্যাচটা বাকি তো আছে। আর সেটাতে এই দুই ম্যাচ থেকে পাওয়া ‘ইতিবাচক’ দিকগুলো কাজে লাগাতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক। শুক্রবার ব্যাটে-বলে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়ে ১৭৭ ব্যবধানে দ্বিতীয় ম্যাচ হারার পাশাপাশি সিরিজ পরাজয়ও নিশ্চিত হল। গ্রেনাডা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুঁড়ে দেয়া ২৪৮ রানের লক্ষ্যে ছুটতে নেমে ২৪.৪ ওভারে ৭০ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য হিসেবে ২৪৮ এমন বিশাল কিছু নয়। কিন্তু বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল, এভারেস্ট পার হতে নেমেছে তারা; সে চেষ্টায় পর্বতের গোড়াতেও পৌঁছাতে পারলো না তারা। চার ওপেনারের দলের তিনজন এনামুল হক বিজয়, ইমরুল কায়েস ও সামসুর রহমান শুভ ব্যর্থ হলেন দারুণভাবে। এরপর মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে পর পর দুই বলে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন ক্যারিবিয় স্পিনার সুনীল নারিন। নাসির হোসেন ও সোহাগ গাজীও ড্রেসিংরুমে ফেরার প্রতিযোগিতায় মাতলেন। বোলাররা ব্যাট হাতে অন্তত ব্যতিক্রমী কিছু করেননি; ফলে পরাজয়ের ব্যবধান দীর্ঘই হয়েছে। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩৭ রান করে কেমার রোচের বলে আউট হয়ে ফেরেন তামিমও। বাংলাদেশের পুরো ইনিংসে এই একজন ব্যাটসম্যানই দুই অংকের দেখা পেয়েছেন। এর আগে মূল ক্রিস গেইল ও ড্যারেন ব্র্যাভোর দুই ফিফটি এবং সিমন্সের ৪০ রানে ভর করে ২৪৭ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আট বছর পর বাংলাদেশের বিপক্ষে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেন গেইল। শুরুতে অবশ্য দুই পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও আল আমিন হোসেন দুপ্রান্ত থেকে চেপে ধরেছিলেন ক্যারিবীয়দের। মাশরাফির কৃপণ বোলিংয়ের পাশাপাশি আল আমিন একেবারে ত্রাস ছিলেন। প্রথম ৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ উইকেট হারিয়ে ৬টি মাত্র রান তুলতে পেরেছিল। কির্ক এডওয়ার্ডসকে আউট করা আল আমিনের ওই সময় পর্যন্ত বোলিং বিশ্লেষণ: ২-১-১-১! তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি; শেষ পর্যন্ত এ সবই ম্লান হয়ে গেছে। আর এই পরাজয়ের ফলে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি কার্যত এক অর্থহীন লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তারপরও সেই অর্থহীন ম্যাচেই এখন সব আশা দেখছেন মুশফিক। এই ম্যাচে বোলাররা যে পারফরম করেছেন, সেটাকে প্রেরণা নিয়ে শেষ ম্যাচে নামতে চান মুশফিক, ‘একটা ভালো ব্যাপার হল, একটা খেলা এখনও বাকি আছে। আমরা অন্তত এর চেয়ে যে ভালো দল, সেটা দেখানোর একটা সুযোগ এখনও আছে। বোলাররা তাদের কাজ ঠিকই করেছে। কিন্তু ব্যাটিংয়ের অনেক উন্নতি করতে হবে। যে একটা খেলা বাকি আছে, সেটা থেকে একটা ভালো ফল আশা করছি আমরা।’ এই আশার কথা শোনানোর আগেই অবশ্য মুশফিক দারুণ হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা থেকে। কোনো ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে ন্যূনতম লড়াইয়ের ইঙ্গিত না পেয়ে হতাশ তিনি, ‘অবশ্যই এটা আমাদের জন্য খুবই হতাশার। আমরা দ্রুত কয়েকটা উইকেট হারালাম। তারপর সবচেয়ে হতাশার ব্যাপারটা হল, একজন ব্যাটসম্যানও একটু লড়াই করার চেষ্টা করলো না বা ইচ্ছাটা দেখালো না।’ মুশফিকুর রহিমের এই হতাশার বিপরীতে ক্যারিবিয় শিবিরে আনন্দই থাকার কথা শুধু। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ড্যারেন ব্র্যাভো আনন্দ করার পাশাপাশি বললেন, তাদের ব্যাটিং মাঝপথে রাস্তা হারিয়ে ফেলায় এবং শুরুতে যথেষ্ট রান তুলতে না পারায় তারা একটু হতাশ।