মার্শালের সুযোগ হচ্ছে না!
বাংলাদেশের ক্রিকেটে বাঁহাতি স্পিনারদের দাপট নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেই ফেলেছেন গাদা গাদা বাঁহাতি স্পিনার। আর ঘরোয়া ক্রিকেটে তো কথাই নেই। তারপরও অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ বোলিং আক্রমণটা নিয়ন্ত্রণ করবেন উঠতি বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
তাইজুল শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাক, সাকিব আল হাসানদের এলিট ক্লাবে নাম লেখাতে পারবেন, নাকি মোশাররফ রুবেলদের মতো অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে হারিয়ে যাবেন; সেটা সময়ই বলবে। তবে অল্প বয়সেই বড় সুযোগ পেয়ে গেলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে যোগ দিতে শুক্রবার রাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজে রওনা হয়ে গেছেন।
শুধু তাইজুল নন, টেস্ট দলে যোগ দেবেন বাংলাদেশের আরও চার ক্রিকেটার—পেসার রবিউল ইসলাম ও সফিউল ইসলাম এবং অলরাউন্ডার শুভাগত হোম চৌধুরী। এই তিনজন যেহেতু শুধু টেস্ট উপলক্ষে যাচ্ছেন, তাই তাইজুলের ক’ দিন পর, মঙ্গলবার রাতে রওনা দেবেন তারা। বিস্ময়করভাবে এই ‘টেস্ট-পার্টি’তে নেই মার্শাল আইয়ুব।
এই চারজনকে জায়গা করে দিতে ওয়ানডে সিরিজ শেষে দেশে ফিরে আসবেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাসকিন আহমেদ, মিথুন আলী ও আব্দুর রাজ্জাক। মাশরাফি ও তাসকিন টেস্ট খেলবেন না, এটা অনেক আগে থেকে নিশ্চিত ছিল। দু’জনের কেউই টেস্ট খেলার মতো ফিট নন। রাজ্জাককে অনেকদিন ধরেই টেস্টে ‘উপযুক্ত’ মনে করা হয় না; বিশেষ করে দেশের বাইরে তো নয়ই। মিথুন আলীকেও এখনও পর্যন্ত দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের জন্য বিবেচনা করছেন না নির্বাচকরা। কিন্তু মার্শাল আইয়ুবের মতো দীর্ঘ পরিসরের ব্যাটসম্যানকে আরও সুযোগ না দিয়ে হঠাত্ শুভাগত কেন, এ নিয়ে প্রশ্ন চলতেই পারে।
বাংলাদেশের এই প্রজন্মের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে লম্বা দৈর্ঘ্যের ম্যাচে সবচেয়ে যোগ্য মনে করা হয় মার্শালকে। সে প্রমাণ ঘরোয়া ক্রিকেটে বহুবার দিয়েছেন তিনি। দুই দুটো ডাবল সেঞ্চুরিও আছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। কিন্তু তাকে এখনই নির্বাচকরা ভুলে গেলে সেটা বিস্ময়কর বৈকী!
বোর্ড সভাপতি দেশে না থাকায় টেস্ট দলের এই খেলোয়াড়দের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাই এইসব প্রশ্নের ব্যাখ্যাও ঠিক পাওয়া গেল না।
মার্শালকে ভোলাটা যেমন বিস্ময়কর ততোটা না হলেও আরফাত সানি ও ইলিয়াস সানিকে ভুলে যাওয়াটাও কম নয়। ইলিয়াস সানিকে নির্বাচকরা ‘এ’ দলের স্কোয়াডেও রাখেননি। এই দুই বাঁহাতির বদলে এবার নতুন করে তারা আস্থা রেখেছেন তাইজুলের ওপর।
২০১১ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে শুরু করা তাইজুলের ক্যারিয়ার অবশ্য ঈর্ষা জাগানোর মতোই। এ পর্যন্ত ১৯টি ম্যাচ খেলে ৯১ উইকেট নিয়েছেন। ইনিংসে তাইজুল ৫ উইকেট নিয়েছেন ৮ বার, ইনিংস সেরা বোলিং-৮/৮৬।
