বিচারপতিদের অভিসংশন প্রশ্নে জনমত যাচাই করুন :টিআইবি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:২৪
উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেয়ার আগে ব্যাপকভিত্তিক জনমত যাচাই এবং সাংবিধানিক ও আইনজ্ঞ, গবেষক, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিমত নেয়ার আহবান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনটি এই দাবি জানিয়েছে। গত ১৮ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭২ এর সংবিধান অনুযায়ী সংসদের হাতে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের পর এ বিষয়ে আরো বিস্তৃত ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিশংসন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা অপরিহার্য বলে মনে করে টিআইবি। বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং আদর্শ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নিরিখে তথা বিশ্বের উন্নততর গণতান্ত্রিক দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ৭২ এর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ ফিরিয়ে আনা যৌক্তিক বিবেচিত হতে পারে। তবে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের স্বপ্ন নিয়ে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি স্থাপনের প্রত্যাশায় ৭২ এর সংবিধান প্রণীত হয়েছিল তা যেভাবে ক্ষমতার রাজনীতির হাতে জর্জরিত হয়েছে তাতে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা এককভাবে ন্যস্ত করার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে ক্ষমতাহীন করা হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কতটুকু বজায় থাকবে এবং বিচারকগণ কতটুকু স্বাধীন, দলীয় প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও চাপের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি বলেন, অভিশংসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য একদিকে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে অন্যদিকে বিচারপতিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখতে হবে। সংসদের হাতে বিচারকদের অভিশংসনের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রদান করা হলে বিচার ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের প্রাতিষ্ঠানীকিকরণের ঝুঁকি বাড়বে।