দুনিয়া পাল্টানো নারী

মহীয়সী কবি সাফো

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২০:০৭
মানব সভ্যতা গড়ে উঠেছে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণে। যুগে যুগে নারীর হাতে ঘুরেছে সভ্যতার চাকা। কৃতিত্বের স্বীকৃতি না পেয়েও শক্ত হাতে হাল ধরেছে সংস্কৃতি এবং সভ্যতার। ধাপে ধাপে তারা পাল্টেছে পৃথিবীকে। অচেনা-অজানা সেইসব মহীয়সী নারীকে নিয়েই আমাদের ধারাবাহিক আয়োজন। আমাদের আজকের দুনিয়া পাল্টানো নারী ‘কবি সাফো’। গোলাপ ফুলের প্রথম পরিচয় পাওয়া যায় তার কবিতায়। তাঁর রূপের এবং লেখার প্রশংসা করেছেন স্বয়ং সক্রেটিস। লিপিবদ্ধ কবিতার সন্ধান পাওয়া কবিদের মধ্যে তিনি প্রথম কয়েকজনের মধ্যে একজন। কবি সাফো। কবিতার আঙ্গিনায় এমন এক নারী, যাকে সক্রেটিস সেই সময়কার সেরা ১০ জন কবির একজন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। গ্রিক কবি সাফোইস্লিঅবলে সব সে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসে তিনিই প্রথম লেসবিয়ান কবি হিসাবে পরিচিত। তিনি লেসবসে জন্মগ্রহণ করেন, তাই তাঁকে লেসবিয়ান কবি বলা হয়। তবে তাঁকে সমকামীও বলেছেন কিছু ইতিহাসবিদ। সমকামী প্রেমিকা আত্তিস সম্পর্কেও প্রচলিত আছে কিছু মিথ। সাফোর প্রকৃত জীবন সম্পর্কে কমই জানা যায়। তাঁর কবিতা বিশ্লেষণ করে তাঁকে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর অধিকাংশ কবিতা হারিয়ে গেছে। তিনি আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৬২০ থেকে ৬৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদদের মাঝে তাঁর জীবনী নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তা সত্ত্বেও লেসবস দ্বীপে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাহিত্যচর্চা আজো কিংবদন্তী। তাঁর কবিতায় তিনি নারী-পুরুষের সম্পর্ক আর প্রকৃতির বর্ণনা করেছেন নিপুণভাবে। সাফোকে সমকামী বলা ইতিহাসবিদের সংখ্যা কম। অধিকাংশ ইতিহাসবিদ বলেন, সাফো সক্রেটিসের মতো জীবনযাপন করেছেন। সমমনা একদল মানুষ তাঁকে সবসময় ঘিরে থাকতো। আত্তিসও এদের মধ্যে একজন। তারা মূলত কলা, কবিতা, এবং সংস্কৃতি নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত থাকতেন। ধারণা করা হয়, সাফো স্কুলের মতো একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন যা মূলত সমমনা একদল বন্ধুদের আড্ডার ঢঙে গড়ে উঠেছিলো। সাফোর ছিল জীবন ও যৌনতা সম্পর্কে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে জীবন ও যৌনতা সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় নিজের মতামত প্রকাশ করে গেছেন। তবে সেই সময়কার মানুষ তাঁর এই মতামতকে হাস্যকর ভেবেছেন। অনেকে তাঁকে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বলেও উপহাস করছেন। তবে এই নারী কবি এবং তাঁর কবিতা যুগে যুগে কবিদের শিখিয়েছে নিজের চিন্তাকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরতে। মহীয়সী এই নারী খ্রিষ্টপূর্ব ৫৭০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।