মাসতুরা মহিউদ্দিন

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২০:০৮
একটি মেয়ের জন্মলগ্নে তার পরিবারের অখুশি তার স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সে যখন বড় হতে থাকে তার পরিবারের দুঃখ মনে হয় আরো ভারী থাকে কথায় আছে, নারী যেখানেই যায় বিপদ তার পিছু পিছু ধায়। সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তারা আজ অবহেলিত। নারীরা কেন এতো অধিকার বঞ্চিত? কেন নির্যাতনের স্বীকার? নারীরাই পারে সভ্যতার চাকা সচল রাখতে। তবে আদিমকাল থেকে আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দ্বারা অনুসরণ করতে করতে নারীদের অধিকার বঞ্চিত ও নির্যাতনের অগ্নিকূপে ফেলে দেয়া হয়েছে। একটি মেয়ের জন্মলগ্নে তার পরিবারের অখুশি তার স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সে যখন বড় হতে থাকে তার পরিবারের দুঃখ মনে হয় আরো ভারী থাকে। যতদিন না বিয়ে দেয়া যায় সে পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে থাকে। নারী তার অসীম সহ্যের সীমা তাই সে দুঃখকে মনের মাঝে পুষতে থাকে সব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে। বিয়ের পরে স্বামীর ঘরেও তার বিন্দুমাত্র পাওয়ার আগ্রহটাকেও সে মেরে ফেলতে চায়। আধুনিক সমাজ এত সচেতন হওয়ার পরেও নারীদের এত নির্যাতিত হতে হয়! আইন আছে অনেক। তবে যৌতুক বা ইভটিজিং এখনো বিদ্যমান। আমার জীবনের ছোট্ট একটা অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিচ্ছি। একদিন রাস্তায় একটি মেয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। কিছু কলেজ পড়ুয়া ছাত্র হঠাত্ মেয়েটিকে উচ্চস্বরে বলতে লাগল, এই যায় গার্মেন্টসের মেয়ে। মেয়েটা নিজের সম্মান বাঁচানোর জন্য আর কিছু বলল না। রাস্তার সব লোকজন তাকিয়ে দেখলো। একবারও ভাবল না হোক সে গার্মেন্টসের মেয়ে সে কি অসম্মানের কাজ বরং ছেলেগুলোর গায়ে যে কাপড় তাও গার্মেন্টসের মেয়েদের হাতেরই তৈরি। এখনো বৈষম্যের শিকলে বন্দি নারীরা। শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়াটাই কি কারণ? নিশ্চয়ই তা নয়। সমাজের প্রচলিত ভুল রীতিনীতি ও নারীদের প্রতি পুরুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী সমাজে অধপতন ঠেকে আনছে। নির্যাতন নারীর অগ্রগতির পথে বাধা। সচেতন সকল মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।