সাভারে ‘সোর্সদের’ অপকর্মে অতিষ্ঠ লোকজন

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২১:২১
সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়া থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত সোর্সদের অপকর্মে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। কথিত এই সোর্সরা নিজেদের ডিবি পুলিশ কিংবা পুলিশের সিভিল টিমের সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করছে। এছাড়া ভুয়া ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপরাধীদের গ্রেফতার করতে কিংবা অবৈধ মালামাল উদ্ধারে সোর্স হিসেবে অপরাধীদেরই ব্যবহার করে। তবে সোর্সরা সন্ত্রাসীদের অবস্থান কিংবা অবৈধ মালামাল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে তুলে দিয়ে সহায়তা করার পরিবর্তে নিজেরাই বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি বা ভয় দেখিয়ে আদায় করছে লাখ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কথিত সোর্সরা নিজেরাই তাদের টার্গেটকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মাদক বা নিষিদ্ধ বস্তু রেখে তাদের গ্রেফতার কিংবা গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করে। এ সকল কথিত সোর্সের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ও নারী ব্যবসাসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্যের সাথে সোর্সদের রয়েছে অবাধ মেলামেশা। এসব দেখে সাধারণ মানুষ অপরাধীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে ভয় পায়। সোর্সরা রাতে মাইক্রোবাসে এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। নিজেদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে পথচারী কিংবা সাধারণ মানুষকে গাড়িতে তুলে নিয়ে তাদের সর্বস্ব লুট করে দূরে নির্জন স্থানে নামিয়ে চম্পট দেয়। এসময় তাদের কাছে পুলিশের ব্যবহূত হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি, এমনকি পিস্তলও থাকে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। সোর্সদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে বিভিন্ন মামলা জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। সোর্সদের অধিকাংশই নেশাগ্রস্ত ও অবৈধ অস্ত্রধারী। অনেক সোর্সের বিরুদ্ধে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও গৃহবধূদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ধর্ষণেরও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অপরাধীদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের অভিযানের খবর দ্রুত মোবাইলে সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে দিয়ে অপরাধীদের সরে যেতেও সোর্সরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, সোর্স পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।