চাপে রিয়াল আত্মবিশ্বাসী অ্যাটলেটিকো

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৫
লা লিগায় নিজেদের মৌসুম উদ্বোধনী ম্যাচের আগে অনেকটা বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে শিরোপা দৌড়ের অন্যতম ফেভারিট দুই দল রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। আগের মৌসুমে বহু আরাধ্য দশম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার স্বাদ পাওয়া রিয়াল প্রাক মৌসুম ম্যাচগুলোতে মোটেই মেলে ধরতে পারেনি নিজেদের। ফলে তারকাবহুল এক নিয়েও চাপেই থাকতে হচ্ছে তাদের। তবে এই ম্যাচের শুরু থেকেই তারা হয়তো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সেবা পাচ্ছে। অন্যদিকে, রিয়ালকে হারিয়ে সদ্যই স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতা অ্যাটলেটিকো সেই তুলনায় অনেকটাই নির্ভার। শুরুর এই শিরোপা দলকে লিগ শিরোপা ধরে রাখতে আরো আত্মবিশ্বাসী করবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির অধিনায়ক গাবি। সান্তি কাজোলরা, লুকা মড্রিচ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজামা, গ্যারেথ বেল, কারভাজাল, জাভি আলোনসোরা তো ছিলেন আগেই। কার্লো অ্যানচেলত্তির দলে নতুন যুক্ত হয়েছেন ব্রাজিল বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স দিয়ে সবচেয়ে আলো ছড়ানো দুই খেলোয়াড় টনি ক্রুজ, হামেস রড্রিগেজ। তাদের জায়গা দিতে প্রায় নিশ্চিতভাবে বিদায় নিতে হচ্ছে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ও স্যামি খেদিরাকে। এর মধ্যে ডি মারিয়ার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যাওয়াটা তো প্রায় নিশ্চিতই হয়ে গেছে। ব্রিটিশ এবং স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম বলছে, সাত কোটি ইউরোতে ইংলিশ জায়ান্টদের সাথে এরই মধ্যে যুুক্ত হয়েছেন তিনি। শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই বাকি। এক ঝাঁক তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বটেই রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডি মারিয়ার দল ছাড়ার ব্যাপারটিও। কারণ নতুন তারকাদের দলে ভেড়াতেই যে পরীক্ষিত এই আর্জেন্টাইনকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে সেটা ভক্তদের নিশ্চয়ই অজানা নেই। এরই মধ্যে অধিক সন্যাসীতে গাজন নষ্ট হবার আশঙ্কাও প্রকাশ করতে শুরু করেছেন সমালোচকরা। তাছাড়া, প্রাক মৌসুমের ছয়টি ম্যাচে রিয়ালের পারফরম্যান্সও তাদের দুরন্ত আক্রমণভাগের পক্ষে কথা বলছে না। ছয় ম্যাচে তারা করতে পেরেছে মাত্র সাত গোল। রোনালদো, বেনজামা, রড্রিগেজ সম্পন্ন একটি আক্রমণভাগ যাদের নিয়মিত বল যোগাতে প্রস্তুত মডরিচ, আলোনসোর মতো তারকারা; তাদের নামের পাশে পরিসংখ্যানটা মানাচ্ছে না মোটেই। তাই কর্ডোবার বিরুদ্ধে আজ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি রিয়ালের জন্য অনেকটা নিজেদের প্রমাণ করার ম্যাচই হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিন গোলরক্ষক বাদে দলের মোট খেলোয়াড় সংখ্যা ১৮ জন হওয়ায় অ্যানচেলোত্তিকে ভাবতে হবে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার দিকেও। সুতরাং, তুলনামূলক বিচারে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে ইসকো, কারভাজালকেও। এদিকে, রিয়ালের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকোর পরিবেশটা ঠিক বিপরীত। মাত্রই রিয়ালকে হারিয়ে ট্রফি জেতা দলটি আছে ফুরফুরে অবস্থায়। ভিসেন্তে ক্যালদেরনে ঐ জয়টি ছিল নিজেদের মাঠে রিয়ালের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে তাদের প্রথম জয়। কাগজে কলমে শিরোপাটি তেমন গুরুত্ববহ না হলেও, আত্মবিশ্বাস বিনির্মাণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেই মনে করছেন গাবি। পাশাপাশি তিনি সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন, শিরোপার আনন্দে অতিরিক্ত গা ভাসিয়ে না দিতে। তিনি বলেন, ‘অ্যাটলেটিকো (ক্লাব) তার খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কিছু জিনিস চাইতেই পারে। খেলোয়াড়রা আরো শিরোপা জেতার জন্য নিজেদের উজাড় করে দেবে এটাই চায় ক্লাব। আমরা এমন কিছু ক্লাবের কাতারে নিজেদের তুলে এনেছি যারা শিরোপার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারেও প্রস্তুত। আমরা এই অবস্থান থেকে সরে যেতে চাই না।’ দলীয় সমঝোতা যদি অটুট থাকে তাহলে আরো শিরোপা না জেতার কোন কারণ নেই জানিয়ে এই স্প্যানিশ আরো বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দলটা। এখানে নির্দিষ্ট কোন খেলোয়াড় আলাদা কোন গুরুত্ব বহন করে না। কোন খেলোয়াড়ই ক্লাবের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ অ্যাথলেটিক বিলবাওর বিরুদ্ধে আজ তাদের মাঠে খেলার মাধ্যমে দলটি শুরু করতে যাচ্ছে তাদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াই। যদি অ্যাটলেটিকো তাদের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে পারে, তাহলে হয়তো বিলবাওর জন্য কঠিন সময়ই অপেক্ষা করছে। -মার্কা অবলম্বনে