প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রত্যেক জেলায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরিবেশ ও কৃষি জমি ধ্বংস করে যত্রতত্র শিল্প-কারখানা করার পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে পরিবেশবান্ধব শিল্পনগরী গড়ে তুলতে হবে। আর এ জন্য প্রত্যেক জেলায় সার্ভে (জরিপ) করতে হবে। কোথায় কোন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা যায় সেগুলো গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনা আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের উত্সাহিত করবে। পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কারখানার জন্য নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার প্রতিষ্ঠা করবে সরকার, ফি দিয়ে শিল্প মালিকরা তা ব্যবহার করতে পারবেন এবং তা বাধ্যতামূলক হবে।
গতকাল রবিবার সকালে মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিল্পের বিকাশে বর্তমান সরকার রেডিও, টেলিভিশনসহ বেসরকারি খাতগুলোকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। প্রয়োজন ও যুগোপযোগিতা বুঝে সরকারি খাতও পুনর্গঠন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শিল্পের ব্যাপক প্রসারে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, সরকারি কলকারখানা বিক্রি না করে সেখানে পরিকল্পিত শিল্পায়ন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শিল্প কোনভাবেই আর বিক্রি করতে যাব না। আমরা দেখেছি, একটা টেন্ডার দেয়া হচ্ছে নামকাওয়াস্তে। তারপর একটা মূল্যবান সম্পদ, মূল্যবান জায়গা একেবারে পানির দামে চলে যাচ্ছে; আমরা সম্পদ হারাচ্ছি। পঞ্চবার্ষিকী ও ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া কোন দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী সাভারের চামড়া নগরীতে ইটিপি স্থাপন করে হাজারিবাগের কারখানাগুলো স্থানান্তরের যে কাজ চলছে তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ওপর চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা সরকার বাস্তবায়ন করছে। আমরা সবকিছু বিকেন্দ্রীকরণ করে দিতে চাই। এ জন্য আমরা ইতিমধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করেছি। সাত বিভাগে সাতটি এবং আরো কয়েকটি জায়গা খোঁজা হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ যেন সেখানে আসে তার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আমরা সৃষ্টি করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে জাহাজ ভাঙা শিল্প বরগুনার আমতলী ও তালতলী এলাকায় সরিয়ে নেয়ারও পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। শিপ বিল্ডিং এবং শিপ রিসাইক্লিংয়ের জন্য এখন দক্ষিণাঞ্চলে আমরা একটা জায়গা খুঁজছি। জাহাজ শিল্পের সফলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে আমাদের দেশে এ শিল্পকে জাহাজ-ভাঙা শিল্প বলা হতো। এখন আমরা এটাকে ‘জাহাজ রিসাইক্লিং’ বলি।
প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের বিকাশে সহায়তার কথা তুলে ধরে সরকারি শিল্পের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিটা ক্ষেত্রে যদি সরকারি খাত না থাকে তাহলে নিয়ন্ত্রণও থাকে না এবং মানও উন্নত থাকে না।
বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ও আমার বোন ছাড়া আমাদের পরিবারের সবাইকে আমরা হারিয়েছি। এই ব্যথা বুকে নিয়েও বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে বসাতে আমি সংগ্রাম করে যাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মাদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ প্রমুখ।
