দেশের তরুণদের উদ্যোগ গর্ব করার মতো

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৮
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম প্রতিদিন নতুন নতুন ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসছে। তাদের উদ্যোগ গর্ব করার মতো। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে আমরা বাংলাদেশ এনে দিয়েছি। এখন তারা তাদের মেধা দিয়ে বাংলাদেশ গড়বে। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে পরিবেশ বান্ধব নির্মাণ সামগ্রীর ওপর আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বেসরকারি কোম্পানি কনকর্ড এ সেমিনারের আয়োজন করে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। একসময় আমরা মানবাধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা—এসব নিয়ে আলোচনা করেছি। এখন আমরা জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলছি। এমনকি পরিবেশ বান্ধব নির্মাণ সামগ্রীও আমাদের আলোচনায় উঠে আসছে। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণের জন্য কিছু রাষ্ট্র দায়ী হলেও আমি দোষারোপের খেলায় বিশ্বাস করি না। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। যারা জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য দায়ী তারা আমাদের এখন অর্থ দিচ্ছে, ট্রেনিং দিচ্ছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা নতুন নতুন নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে আসছে। কেউ কেউ দেশের বাইরে গিয়েও কাজ করছে। তাদের জন্য আমরা গর্ব করতে পারি। তিনি বলেন, ২০ বছর আগে আমরা যা চিন্তাও করতে পারিনি উদ্যোক্তারা এখন তা করে দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তারা নতুন চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ বান্ধব নির্মাণ সামগ্রী উত্পাদনের জন্য তিনি কনকর্ড গ্রুপের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আশা করছি অন্য উদ্যোক্তরাও এ কাজে এগিয়ে আসবেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইয়ুন ইয়ং বলেন, বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন একটি বড় ইস্যু। কোরিয়াও পরিবেশ বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, পরিবেশের ক্ষতি মোকাবেলায় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলাম দেখলেই অনুমান করা যায়। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি যত এগিয়ে যাবে, পরিবেশের ওপর ততই চাপ বাড়বে। আমাদের বিপুল জনসংখ্যার বাসস্থানের কথা মাথায় রেখে পরিবেশ বান্ধব নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এখনকার দিনে গ্রিন ইকোনমি একটি বড় বিষয়। শুধু অর্থনীতিতে উন্নতি করলেই হবে না। এ উন্নয়ন যাতে টেকসই হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর প্রেসিডেন্ট ড. ইঞ্জিনিয়ার এম. শামীম জেড. বসুনিয়া বলেন, প্রকৃতির কাছে খুব বেশি দাবি করে প্রকৃতিকে নষ্ট করা যাবে না। আমরা উন্নয়ন চাই; কিন্তু সে উন্নয়ন যাতে টেকসই হয় সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামালউদ্দিন বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে এমন ইটভাটা বন্ধ করতে হবে। এজন্য সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার যোগ্য। তিনি বলেন, শুধু নীতিমালা করে পরিবেশ দূষণ বন্ধ করা যাবে না। এজন্য সবার মধ্যে সচেতনতা নিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সালেহ মোস্তফা কামাল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে লালা ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল।