ইবিতে পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, ২০ জন আহত

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৯
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে ৬ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ছাত্রলীগের ৫ জন। হামলার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের ছাত্রধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রলীগ প্রক্টর অফিসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি গাড়িতে ভাংচুর চালায়। রবিবার ক্যাম্পাসে শিবিরের মিছিলের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ভাংচুর এবং উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের গাড়িতে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। পুলিশ এতে বাধা দিলে ছাত্রলীগ পুলিশের ওপর হামলা করে। গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হলেন— শাহীনুর রহমান, রানু, অনিক, পলাশ ও বিপ্লব। গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিত্সা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল তরিকুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, আমিরুল ইসলাম, জুয়েল, তুহিন ভিক্টর, আনিছুর রহমান, শিপু কুমার আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদে রবিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে ছাত্রশিবির। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাধা দিলে শিবির নেতাদের সাথে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানের অনুমতি ছাড়াই মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অনুষদ ভবনের এসে শেষ হয়। শিবিরের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিবিরের মিছিলের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি বাসে ভাংচুর চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তারা প্রশাসন ভবনের সামনে আরো তিনটি বাসে আরেক দফা ভাংচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ছাত্রলীগ উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালালে পুলিশ এতে বাধা দিলে ছাত্রলীগ নেতারা পুলিশের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় ছাত্রলীগের হামলায় পুলিশের ৫ সদস্য আহত হন। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরে ছাত্রলীগ নেতারা ডায়না চত্বর থেকে চলে এসে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থানরত আরেক পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন এবং পুলিশের দিকে তেড়ে আসেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যরা ছাত্রলীগকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৫ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রশাসন ভবনের ভিতরে আশ্রয় নেন এবং তাদের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহন হন। পুলিশের গুলিতে জনি নামের পরিবহন অফিসের এক কর্মচারী আহত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। অন্যদিকে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাকিম সরকার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের পদত্যাগ দাবি করে মিছিল করে ছাত্রলীগ। মিছিল শেষে তারা ক্যাম্পাস থেকে বাস চলাচলে বাধা দেয়। এছাড়া পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম হোসেন খান বলেন, শিবিরের মিছিলের প্রতিবাদে আমরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করলে পুলিশ একপর্যায়ে বাধা দেয়। এসময় আমাদের কিছু নেতাকর্মী তাদের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ অতর্কিত গুলি ছোঁড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আসাদুল্লাহ বলেন, গাজা ইস্যুতে মিছিল চলাকালে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাতে যোগ দেয়। সংঘর্ষ বা ভাংচুরের সাথে শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক বলেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসির গাড়িতে হামলার চেষ্টা করেছে এবং পুলিশের ওপর বিনা কারণে চড়াও হয়েছে পুলিশ তাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছে। প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ছাত্রলীগ কেন পুলিশের ওপর চড়াও হলো তা বুঝতে পারছি না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ক্যাম্পসের পরিস্থিতি শান্ত আছে।