রাজধানীতে ইউরেনিয়াম উদ্ধার!

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৬
রাজধানীতে কথিত ‘ইউরেনিয়াম’ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ীসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে কথিত ইউরেনিয়াম ভর্তি চামড়ার বাক্স, চামড়ার গ্লাভ্স, জ্যাকেট, গ্যাস মাস্ক, ক্যাটালগসহ বেশকিছু সরঞ্জাম। গ্রেফতারকৃতদের দাবি, বাক্সের মধ্যে দুই পাউন্ড ইউরেনিয়াম রয়েছে, যার মূল্য ৫০ কোটি টাকা। তবে বাক্সের ভিতরে আসলে কী আছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়। গতকাল রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ইউরেনিয়াম একটি উচ্চ ঘনত্বের তেজস্ক্রিয় মৌল, যা বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য পরমাণু চুল্লিতে এবং আনবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহূত হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ময়নাল হোসেন ওরফে সাগর, হুমায়ুন কবীর, কাইয়ুম চৌধুরী, কায়েস আহম্মেদ, খালেক, স্বপন মোল্লা, ফিরোজ,মাহফুজুর রহমান নাসিম, আসলাম মিয়া, মইনউদ্দীন সরোয়ার রাজন ও তোফায়েল আহম্মেদ পাটোয়ারি। বনানী থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতারকৃতদের গতকাল রবিবার ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় জানান, শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য মতে বনানীর একটি বাসায় কথিত ইউরেনিয়াম পাওয়া যায়। তিনি জানান, উদ্ধার করা বস্তু আসলেই ইউরেনিয়াম কি-না নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরীক্ষার জন্য আনবিক শক্তি কমিশনে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফল দু’সপ্তাহের আগে জানা সম্ভব হবে না। পুলিশের এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতরা দাবি করেছে উদ্ধার করা বস্তু ইউরেনিয়াম। গত ছয়মাস ধরে এগুলো বিক্রির জন্য তারা ক্রেতা খুঁজছিল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আসলাম মিয়া গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তার বনানীর বাসা থেকে খয়েরি রংয়ের চামড়ার বাক্সটি উদ্ধার করা হয়। বাক্সের সঙ্গে থাকা ক্যাটালগে ইউরেনিয়াস অটোমিক ওয়েট-২২২.০৭(এ) লেখা রয়েছে। তিনি জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে বিভিন্ন কায়দায় ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে ‘ইউরেনিয়ামের’ আন্তর্জাতিক চাহিদা সম্পর্কে অবহিত করে। লাখ টাকা বিনিয়োগ করে কোটি টাকা পাওয়া যাবে, এর জন্য বিদেশি ক্রেতারা প্রস্তুত আছে, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে (বিশেষ করে পশ্চিমা দেশে) এর ব্যাপক চাহিদা ইত্যাদি কথাবার্তা বলে ক্রেতা আকৃষ্ট করে। প্রাথমিকভাবে তারা ‘ইউরেনিয়াম’ ক্রেতাকে না দেখিয়ে নানা কায়দায় তৈরি ভিডিও দেখায় এবং ক্রেতা ৫০ লাখ টাকা নগদ দেখাতে পারলে তাকে গোপনে কথিত ‘ইউরেনিয়ামের’ বাক্সটি দেখায়। বাক্সটি এমনভাবে তৈরি যে এতে ক্রেতাদের বিশ্বাস স্থাপিত হয়। তাছাড়া বাক্সের সাথে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম, বিশেষ করে রেডিয়েশন মাপার যন্ত্র, গ্যাস মাস্ক, তাপমাত্রা মাপক যন্ত্র, রেডিয়েশন রোধক জ্যাকেট, হ্যান্ড গ্লাভস এবং ইংরেজি ও রুশ ভাষায় মুদ্রিত ক্যাটালগ দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হয়। এভাবে আগ্রহী ক্রেতাগণ কিছু টাকা বিনিয়োগ করার পর তারা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং অন্য ক্রেতা খুঁজতে থাকে । গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা কথিত ইউরেনিয়ামের বাক্সটি ঢাকার বাইরে একজন ব্যক্তির নিকট থেকে সংগ্রহ করে। ঐ ব্যক্তি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাক্সটি বিদেশ থেকে আনা হয়েছে বলে জানায়। গ্রেফতারকৃতরা চার দিনের রিমান্ডে আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, ‘কথিত’ ইউরেনিয়াম বেচাকেনার গ্রেফতার এগারো জনের প্রত্যেকের চারদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। আসামিরা হলেন— মো. আসলাম মিয়া (৬১), মো. কাইয়ুম চৌধুরী (৫৪), মো. কায়েশ আহম্মেদ (৫৪), মো. তোফায়েল আহমদ পাটোয়ারী (৪৮), মো. হুমায়ুন কবির (৪৮), মো. ময়নাল হোসেন সাগর (৪৫), মো. স্বপন মোল্লা (৪৫), মো. ফিরোজ (৪৫), মো. খালেক (৪৪), মো. মাহফুজুর রহমান নাসিম (৪২) ও মো. মইনউদ্দিন সরোয়ার রাজন (৩৫)। গতকাল রবিবার আসামিদের হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রবিউল আলম সাত দিনের রিমান্ড চান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি চামড়ার বাক্স জব্দ করা হয়। এ বাক্সের মধ্যে ইউরেনিয়াম সদৃশ দুই পাউন্ড পদার্থ পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া এ পদার্থগুলোকে গ্রেফতারকৃতরা ইউরেনিয়াম বলে দাবি করছে।