তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২০
কমিপউটার প্রোগ্রাম একটি সমস্যা সমাধান সমপর্কিত বিষয় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি প্রকাশ কুমার দাস বিভাগীয় প্রধান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী গার্লস কলেজ, ঢাকা প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আজ ৫ম অধ্যায়- প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো। এ প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো সংগ্রহ করে পড়বে। প্রশ্ন-১। প্রোগ্রাম রচনার ধাপসমূহ আলোচনা কর। উত্তর : কমিপউটার প্রোগ্রাম একটি সমস্যা সমাধান সমপর্কিত বিষয়। তাই সমস্যাটি কি, তা কিভাবে সমাধান করা যাবে এসব উপায় বের করে ধারাবাহিকভাবে প্রোগ্রাম লিখতে হয়। প্রোগ্রাম লেখার সময় যদি প্রোগ্রামের ব্যাকরণ, চিহ্নাদি এবং ধারাবাহিকতায় কোন ভুল থাকে তাহলে প্রোগ্রামটি কোন ফলাফল প্রদর্শন করে না। এক্ষেত্রে প্রোগ্রাম লেখার সময় অবশ্যই মনে রাখতে হবে প্রোগ্রামটি নির্দিষ্ট নিয়মে লেখা হচ্ছে কিনা। তাই প্রোগ্রাম লেখার সময় কয়েকটি ধাপে লিখতে হবে। ধাপগুলো নিম্মরূপ : কমিপউটারের সাহায্যে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য নয়টি ধাপ রয়েছে। যথা- ১. সমস্যার সংজ্ঞা নির্ণয় ২. সিস্টেম বিশ্লেষণ ৩. সিস্টেম ডিজাইন ৪. প্রোগ্রাম বিশ্লেষণ ৫. প্রোগ্রাম প্রস্তুতি বা কোডিং ৬. প্রোগ্রাম ইনপুট ৭. প্রোগ্রামের ভুল ত্রুটি সংশোধন (ডিবাগিং) ৮. ডকুমেন্টেশান ৯. প্রোগ্রাম রক্ষণাবেক্ষণ। ধাপগুলোর বর্ণনা: ১. সমস্যার সংজ্ঞা নির্ণয়: সিস্টেম হল কতকগুলো পরসপর সংশ্লিষ্ট জিনিসের একত্রে সমাধান যা একটি জিনিসের মত ব্যবহার করে ও একটি সাধারণ উদ্দেশ্য সাধন করে। যে কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ করার পদ্ধতিকে একটি সিস্টেম বলা যায়। সমস্যার সংজ্ঞা নির্ণয় বলতে বোঝায় কোন সিস্টেমের ভুলত্রুটি ও সমস্যা সঠিকভাবে বোঝা। ২. সিস্টেম বিশ্লেষণ: সমস্যা জানার পর বর্তমান সিস্টেম সম্বন্ধে বিভিন্ন ডাটা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করতে হয়। এজন্য সিস্টেমকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করতে চার্ট, তালিকা, গ্রাফ ইত্যাদির সাহায্য নিতে হয়। একে সিস্টেম বিশ্লেষণ বলে। ৩. সিস্টেম ডিজাইন: সিস্টেম ডিজাইন বলতে বুঝায় সমস্যার সমাধান করার জন্য বর্তমান সিস্টেমের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে নতুন সিস্টেমের মূলরেখা নির্ণয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোন জটিল সমস্যাকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারলেই তার সঠিক সমাধান বের হয়ে আসে। ৪. প্রোগ্রাম বিশ্লেষণ: নতুন সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ কার্যকর করার জন্য অ্যালগরিদম, ফ্লোচার্ট, সুডো কোড ইত্যাদির সাহায্যে প্রোগ্রাম তৈরি করতে হয়। ৫. প্রোগ্রাম প্রস্তুত বা কোডিং : অ্যালগরিদম ও ফ্লোচার্ট তৈরির পর প্রোগ্রাম লেখা হয়। প্রোগ্রাম লেখাকেই কোডিং বলে। ৬. প্রোগ্রাম ইনপুট: মেশিন ভাষায় রচিত প্রোগ্রাম কীবোর্ডের সাহায্যে কমিপউটারে ইনপুট করা হয়। অন্য ভাষায় রচিত প্রোগ্রাম কোন কোন ইনপুট পদ্ধতির সাহায্যে ইনপুট দেয়া হয়। এর পর কমিপউটার মেমরিতে রেখে দেয়। ৭. প্রোগ্রামের ভুল ত্রুটি সংশোধন (ডিবাগিং) : প্রোগ্রামের ভুল ত্রুটি খুঁজে বের করে তা দূর করাকে ডিবাগিং বলে। এর আক্ষরিক অর্থ পোকা বাছা। ১৯৪৫ সালে মার্ক-১ কমিপউটারের ভিতরে একটি মথপোকা প্রবেশ করায় কমিপউটারটি বন্ধ হয়ে যায়। এ থেকেই ডিবাগিং কথাটির উত্পত্তি। সব ভুল ত্রুটি দূর না হওয়া পর্যন্ত কোন প্রোগ্রামই ব্যবহার করা যায় না। ৮. ডকুমেন্টেশান: ডকুমেন্টেশান বলতে বোঝায় সমস্যার বিবরণ, অ্যালগরিদম, ফ্লোচার্ট, গ্রাফ, কোডিং, পরীক্ষার ফলাফল ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় নিদের্শ ইত্যাদির লিখিত বিবরণ বা ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা। প্রোগ্রামিং এর প্রত্যেক ধাপেই তার ডকুমেন্টেশান করে রাখা হয়। ঠিকমত ডকুমেন্টেশান করা না থাকলে পরে প্রোগ্রামকে পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য ডকুমেন্টেশান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৯. প্রোগ্রাম রক্ষণাবেক্ষণ: মাঝে মাঝে প্রোগ্রামে ছোটখাট পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়। এজন্য প্রোগ্রাম রক্ষণাবেক্ষণ বিশেষ প্রয়োজন।