শিক্ষায় সাফল্য
স্বাগত ২০১২-১৩ সেসনে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অফ কম্পিউটার সাইন্স এ্যান্ড টেকনোলোজিতে চার পয়েন্টের মধ্যে ৩.৬০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে । আজ মেধাবী মুখ বিভাগে তার অনুভূতি প্রকাশ করা হলো
ঘুম থেকে উঠে দেখি- আমার ঘরের চারিদিকের দেয়ালে বড় বড় করে লেখা অ, আ, ঈ —— ক, খ, গ ইত্যাদি অক্ষরগুলো। তখন আমার বয়স মাত্র বছর দুইয়েক হবে। কিছুই বোঝার ক্ষমতা আমার হয়নি। কিন্তু চকলেট, কলা, বিস্কুট, আইসক্রীম, কোকাকোলা ভালোভাবেই চিনি। এ সময় আমি দেয়ালের দিক শুধু ফেল-ফেলিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। কি আশ্চর্য, কিভাবে যে এই অক্ষরগুলো আমার স্মৃতিকুঠরিতে লিপিবদ্ধ হয়ে গেল তা আমি বুঝে উঠতে পারলাম না। মার কাছে বাংলা, ইংরেজি অক্ষরগুলো লিখতে আমার কেন যেন কোনো অসুবিধা হলো না। যে কোনো অক্ষর লিখতে একবারেই বাজীমাত। যখন বুঝতে শিখেছি তখন বাবাকে জিজ্ঞাস করে জানতে পারলাম - শিশুরা প্রাথমিকভাবে নাকি দেখে শিখে, করে শিখে, শুনে শিখে। এটা ছিল আমার উপর বাবার একটি গবেষণা। এ কারণেই শিশুরা মা বাবাকে সহজেই চিনতে পারে। সম্ভবত বাংলা ও ইংরেজি অক্ষরগুলো দেখে দেখে শেখার কারণ ছিল এটাই।
আমার পারিবারিক বিদ্যপিঠটি ছিল একটু ভিন্ন বৈশিষ্টের। বাবা অফিস ফেরার পথে আমার জন্য কয়েক ধরনের গাছের পাতা ও ডজন খানেক কলা নিয়ে আসত। বাসায় সে আমাকে গাছের নাম, পাতার বৈশিষ্ট্যগুলো বলতেন। একটু পরেই চোখ বুজে থাকতে বলতেন, এবার চিন্তা কর গাছটির নাম কি ? পাতাটা কি রকম, ইত্যাদি ইত্যাদি।
মিনিট খানেক পরেই বলতেন চোখ খোল। এবার বল -গাছের নাম কি? পাতার আকার, রং --ইত্যাদি ইত্যাদি। আজ বুঝতে পেরেছি এ ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি আমাদের স্কুলগুলোতে একান্তভাবে অনুশীলন করা প্রয়োজন।
