যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় গৃহবধূ তাছলিমা আক্তারের (২৫) সারাদেহ আগুনে ঝলসে দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন। মৃত্যু যন্ত্রণায় ধুঁকে ধুঁকে অবশেষে গতকাল সোমবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে। নিহত ওই গৃহবধূর ইয়াছিন (৫), সাব্বির (৩) ও মীম (৬ মাস) নামে ৩ অবুঝ সন্তান রয়েছে।
জেলার বরুড়া উপজেলার বাড়াইপুর গ্রামের আবু তাহেরের কন্যা তাছলিমা আক্তারের সাথে প্রায় ৭ বছর আগে সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া দক্ষিণ কাচার (জামমুড়া) গ্রামের আহাম আলীর পুত্র রুহুল আমিনের সাথে বিয়ে হয়। তাছলিমার দিনমজুর পিতা আবু তাহের জানান, গত শনিবার সকালে স্বামী রুহুল আমিনসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাছলিমাকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য তার পিতার বাড়িতে পাঠায়। তাছলিমা ওইদিন বিকালে খালি হাতে তার শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাছলিমাকে শনিবার সন্ধ্যায় মারধর করে এবং রাতে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঘর থেকে বের করে বাড়ির পার্শ্ববর্তী রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে তাছলিমার আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরে আশংকাজনক অবস্থায় রবিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে।
গৃহবধূর মামাতো ভাই স্কুল শিক্ষক নূরুন্নবী সিদ্দিক জানান, তাছলিমা আক্তারের শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। চিকিত্সাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে সে মারা যায়। এদিকে নিহতের ৩ শিশু সন্তান দেখে ও তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শোকাহত স্বজনসহ এলাকার মানুষের চোখের জল মুছতে দেখা যায়।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি প্রশান্ত পাল জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা শাহেরা খাতুন বাদী হয়ে তাছলিমার স্বামী রুহুল আমিন, শ্বশুর আহাম আলী, শাশুড়ী আফছারুন্নেছাসহ ৮ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের মধ্যে নিহতের স্বামীর বোন আমেনা আক্তার, মামাতো বোন সালেহা বেগম ও পিয়ারা বেগমকে আটক করা হয়েছে। অপর আসামিদের ধরতে চেষ্টা চলছে।
