কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়াস্থ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি খানা-খন্দে ভরপুর হয়ে গেছে। পরিণত হয়েছে যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে জমে যায় পানি । পানি নিষ্কাশনেরও কোন ব্যবস্থা নেই। উপরন্তু নালা-নর্দমার দূষিত পানি এসে জমা হওয়ায় টার্মিনালটি সারাক্ষণই থাকে কর্দমাক্ত।
টার্মিনালে প্রবেশ করামাত্রই দুর্গন্ধ নাকে এসে লাগে। খানাখন্দে ভরা কর্দমাক্ত, নোংরা টার্মিনালে চলাচলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীসাধারণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওই টার্মিনালের সংস্কারসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য কুমিল্লা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি জানিয়ে আসলেও এ অসহনীয় অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি।
শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, মহানগরীর ২১ নং ওয়ার্ডের জাঙ্গালিয়া এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে রাজধানী ঢাকা এবং কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, কচুয়া, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ছাড়াও জেলার পূর্ব ও দক্ষিণ অঞ্চলের সবকটি উপজেলার জনগণ কমপক্ষে ২০টি রুট দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বাসে যাতায়াত করে থাকেন। এ টার্মিনালে এসেই হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশুদের পড়তে হয় সীমাহীন ভোগান্তিতে। টার্মিনালে প্রবেশের রাস্তাটি ছোট-বড় গর্ত ও খানা-খন্দে ভরপুর। প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। গাড়ি চলাচলের সময় কর্দমাক্ত মাটি ও আবর্জনা ছিটেক পড়ে যাত্রী ও পথচারীদের জামা-কাপড় নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে পর্যাপ্ত যাত্রী ছাউনি না থাকায় যাত্রীসাধারণকে বৃষ্টিতে ভিজে রোদে পুড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস টার্মিনালের ভেতরে বাস পার্কিংয়ের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এছাড়া এখানে দিন দিন বেড়ে চলেছে ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য। বিদ্যুত্ ব্যবস্থাও নাজুক।
জেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোতাহের হোসেন জানান, গত বছর এ টার্মিনালে ইট-সুরকি ফেলে চলাচলের কিছুটা উপযোগী করা হয়েছিল। বর্তমানে টার্মিনালটিতে দু:সহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হাজার হাজার যাত্রীসাধারণ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
