কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৮
কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার ও পরিবহন ৩ মাস বন্ধ থাকার পর তা প্রত্যাহার করায় জেলেদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। মাছ শিকার উম্মুক্ত করার পর বিএফডিসির ফিশারী ঘাট এলাকায় জেলেসহ মত্স্য ব্যবসায়ীদের পদচারণায় সরব হয়ে উঠেছে। তিন হতে সাড়ে তিন মাস মাছ শিকার নিষেধাজ্ঞা উম্মুক্তের পর জেলেদের হাঁক-ডাক, বৈঠার ছলাত্ ছলাত্ শব্দে আর ইঞ্জিন বোটের ত্বরিত যাওয়া-আসায় কাপ্তাই হ্রদে প্রাণচাঞ্চল্য আবারো ফিরে এসেছে। গত ২০ আগষ্ট মধ্যরাত থেকে উক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পুনরায় কাপ্তাই হ্রদ হতে মত্স্য আহরণ উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মারফত এক আদেশ জারি করা হয়েছে। বিএফডিসি, মত্স্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা মত্স্য আহরণ শুরু করার লক্ষ্যে পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করে। আর কাপ্তাই হ্রদ মাছ শিকারের জন্য উন্মুক্ত করায় হ্রদে জেলেদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় । প্রথম দিন থেকেই মাছও ধরা পড়ছে প্রচুর। এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটির বিএফডিসির উপ-ব্যবস্থাপক মো. মাসুদুল আলম জানান, প্রতিবছর মাছের প্রজনন মৌসুমে তিন থেকে সাড়ে তিন মাস কাপ্তাই হ্রদ হতে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবছরের ন্যায় চলতি বছরেও ৭ মে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের এক আদেশের মাধ্যমে মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদ হতে মত্স্য আহরণ, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, শুকানো এবং পরিবহনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরই প্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধকালীন সময়ে জেলেদের বিকল্প জীবিকা হিসেবে বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে ১৮ হাজার ৯৬০ জন জেলেকে ২০ কেজি করে তিনমাসব্যাপী খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। এদিকে রাঙ্গামাটি মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি শাহ আলম জানান, প্রথম দিনেই ছোট মাছ ও চাপিলা মাছ বেশি পাওয়া গেছে। বড় মাছ তেমন একটা পাওয়া যায়নি। প্রথম দিন থেকে জেলে ও ব্যবসায়ীদের প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেলেও সারাবছর এই প্রাণচাঞ্চল্য নাও থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করেন। সময়মতো হ্রদের পানি না বাড়ার কারণে সামনের সময়গুলোতে মাছ সঙ্কটের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।