বরিশালে অচলপ্রায় পোর্ট রোড মোকাম

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৩
নৌ-পথে ট্রলারভর্তি ইলিশ, তরমুজসহ উত্পাদিত নানা পণ্য আসতো নগরীর যে মোকামে সেই পোর্ট রোড মোকামের এখন অচলদশা। ইলিশ নেই। যে খালে ইলিশসহ বিভিন্ন পণ্যভর্তি ট্রলার আসতো তা শুকিয়ে আছে। মোকাম থেকে পণ্য বোঝাই করে দেশের বিভিন্নস্থানে ট্রাক যাতায়াত করতো সেই সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী। পোর্ট সড়কটি শুকনো মৌসুমে ধুলায় ধূসর আর বর্ষা মৌসুমে খানা-খন্দে পানি কাদায় একাকার হয়ে থাকে। এ দুরবস্থার কারণে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি টাকার বাণিজ্যিক ক্ষতি হচ্ছে বলে আড়ত্দার ব্যবসায়ীরা জানান। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ও মত্স্য আড়ত্দার সমিতির সভাপতি ইউসুফ শিকদার ‘ইত্তেফাক’কে জানান, আগে প্রতিদিন এ মোকামে গড়ে ১০ কোটি টাকার পণ্য ক্রয়-বিক্রয় হতো। এখন পণ্য ক্রয়-বিক্রয় নেমে এসেছে ৫ কোটি টাকায়। একদিকে নদ-নদীতে ইলিশ নেই। অপরদিকে যে খালকে কেন্দ করে ব্যবসার এ মোকাম গড়ে উঠেছিল সেই খাল এখন ভরাট হয়ে মৃতুপ্রায়। আর সড়টি অচল হয়ে পড়ে আছে প্রায় তিন বছর। মত্স্য আড়ত্দার সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল জানান- দুই সহস্রাধিক পাইকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে গড়ে ওঠা পোর্ট এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। ভরা মৌসুমে ইলিশ না থাকায় গত শুক্রবার সেখানে মিলাদ মাহফিল ও কাঙালিভোজের আয়োজন করা হয়। পোর্ট রোডের পার্শ্ববর্তী খালটি ভরাট ও সড়ক অচল থাকার কারণে দিনে দিনে মোকামটি জৌলুস হারাচ্ছে। নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হলেও পোর্ট এলাকাটির মালিক বিআইডব্লিউটিএ। এ কারণে বছরের পর বছর বেহাল পড়ে থাকা সড়কটি সংস্কারে সিটি করপোরেশন কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। নগরীর একতলা লঞ্চঘাট থেকে চরমোনাইর ট্রলার ঘাট পর্যন্ত এক কিলোমিটারের পোর্ট সড়কটি চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটির দুই পাশে মুদিপণ্য, মাছের আড়ত্, চালের আড়ত্, ফলের আড়ত্, লোহাপট্টি ও ভাঙ্গারি ব্যবসাসহ সব ধরনের পাইকারি পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারেরও অধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন এখানে কয়েকশ পণ্যবাহী ট্রলার ও ট্রাকে মালামাল ওঠানামা করে। তবে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন পণ্য বোঝাই ট্রলারগুলো কীর্তনখোলা নদী থেকে পোর্ট রোডে আসা-যাওয়া করে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে। ফলপট্টির ফল ব্যবসায়ী মিলন মিয়া জানান- জোয়ারের সময় মালামাল এলেও সড়কের অবস্থা খারাপ থাকায় মালামাল বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। ট্রাক ঢুকতে না পারায় ঠেলাগাড়িতে করে পণ্য লঞ্চঘাটের কাছে নিয়ে ট্রাকে তুলতে হয়। এতে তাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেও ট্রলারে পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এ প্রবীণ ব্যবসায়ী জানান। হিরণ মেয়র থাকাকালীন নিজ উদ্যোগে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছিলেন; কিন্তু নাম সর্বস্ব কাজ করায় তা টিকসই হয়নি।