নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘আমি যখন মর্গ্যান স্কুলে পড়তাম তখন মমতাজ বেগমের কথা জানতাম না। আমি পৌরসভার চেয়ারম্যান হওয়ার পর নাগরিক কমিটির কাছ থেকে জানতে পারি। অনেকেই হয়তো তার সম্পর্কে জানতেন না। কেননা তার ইতিহাস সংরক্ষিত ছিল না। পরে একটি রাস্তা মমতাজ বেগমের নামে নামকরণ করার আলোচনা উঠলে আমি এক বাক্যে রাজি হয়ে যাই। অন্য সবাইও এতে রাজি হন। পরে স্কুলের পাশের রাস্তাটিই মমতাজ বেগমের নামে হয়। আমার নিজের মায়ের নামও মমতাজ বেগম।
গতকাল দুপুরে নগরীর মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগম মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ১৬ জন শিক্ষার্থীকে মমতাজ বেগম মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সমাজে নারীদের এত বাধা-বিপত্তি তাতে অনেক সময় পিছিয়ে পড়তে হয়। কিন্তু মমতাজ বেগমের কথা চিন্তা করবে এবং নারায়ণঞ্জ শহরে একজন আইভী আছে তোমাদের পাশে, এটা মাথায় রাখবে। পুরুষদেরও কিন্তু বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে, রাজনৈতিক বাধার মধ্য দিয়ে আগাতে হয়। সততার কথা যেন আমরা ভুলে না যাই। অন্যায় যেন কখনো না করি। অন্যায়কে যেন আমরা ‘না’ বলতে পারি। আমরা হারিয়ে যেতে চাই না’।
মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগমের জ্যেষ্ঠ নাতনি ডা. ফারজানা ইসলাম রূপা, মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগমের কনিষ্ঠ দৌহিত্র ওয়াসীম ইসলাম বাবু প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক কবির ইউ চৌধুরী।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের তত্কালীন প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। এ জন্য তিনি ২০১২ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।

