মাটিয়া নদীতে বাঁধ দিয়ে পুকুর, নৌচলাচল ব্যাহত

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২২, ১০:১৩

কুমিল্লার তিতাসে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে নদীদখলের অভিযোগ উঠেছে। নদীর বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলার বালুয়াকান্দি গ্রামের মাটিয়া নদীতে এই দখল কার্যক্রম চলছে। এ কারণে নদী সংকুচিত হয়ে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই নৌযান দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।

উপজেলার বালুয়াকান্দির গ্রামের মাটিয়া নদীতে গিয়ে দেখা গেছে, এক সময়ের খরস্রোতা মাটিয়া নদীটি উপজেলার ভূঁইয়ার বাজার থেকে শুরু হয়ে দাউদকান্দি ভাজরা গ্রামসংলগ্ন গোমতী নদীতে মিলিত হয়েছে। মাটিয়া নদীর দুই পাশে বালুয়াকান্দি গ্রামের জমির মালিকরা নিজেদের জমিসংলগ্ন নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে পুকুর তৈরি করেছে। বাঁধ দিয়ে পুকুর খননের কারণে নদী সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রায়ই যাত্রী কিংবা পণ্যবাহী ট্রলার দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বালুয়াকান্দি পশ্চিমপাড়া মসজিদ এলাকায় পাকা ঘাটলার পাশে নদীতে বাঁধ দিয়ে পুকুর নির্মাণ করা হচ্ছে। নদীর উভয় পাড়েই রয়েছে প্রভাবশালীদের পুকুর। 

বালুয়াকান্দি গ্রামের শিপন মিয়া জানান, ছোটকালে এই নদীতে বড় বড় নৌকা চলাচল করতে দেখেছেন। পানির স্রোত সারা বছর থাকত। নদীর জায়গা দখল করে গ্রামের অনেক ব্যক্তি পুকুর খনন করেছেন। যার কারণে নদী সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নৌযান চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। 

ট্রলার চালক শাহ আলম জানান, অনেক বছর ধরে এই নদী দিয়ে যাতায়াত করেন তিনি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নদীর মধ্যে কয়েক জন ব্যক্তি পুকুর নির্মাণ করেছেন। যার কারণে নদী সরু হয়ে গেছে। বর্তমানে দুটি নৌকা পাশাপাশি অতিক্রম করতে খুবই সমস্যা হয়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, একশ্রেণির ভূমিদস্যু নদীর জায়গা দখল করে পুকুর করেছে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বের করতে হবে। আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানাব। 

মজিদপুর ইউনিয়নের লালপুর ইউনিয়ন (ভূমি) কর্মকর্তা রতন কুমার দেব বর্মা জানান, নদী দখল করে পুকুর নির্মাণের বিষয়টি তার জানা নেই। সরেজমিন গিয়ে বিষয়টি দেখবেন তিনি। এছাড়া তিনি বলেন, সার্ভেয়ারকে নিয়ে মেপে দখলদারদের তালিকা করা হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম আবু নওশাদ জানান, নদী দখল করে কারো পুকুর নির্মাণ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। এমন হয়ে থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ উচ্ছেদ করা হবে। 

ইত্তেফাক/ ইআ