সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নানা উদ্যোগেও নারী নির্যাতন কমছে না

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২২, ১৫:৩৭

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার ধর্ষণের শিকার হয় এক ছাত্রী। স্থানীয় এক যুবক ঐ ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ঐ ছাত্রী। আত্মহত্যার আগে চিরকুটে ধর্ষকের নাম লিখে যান ঐ ছাত্রী।  

এর আগে গত ২ মার্চ পটুয়াখালীতে স্বামী মিলন খানের ছুড়ে দেওয়া দাহ্য পদার্থের আঘাতে মুখ ঝলসে যায় স্ত্রী তনয়ার। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর শরীরে প্রচুর আঘাতের চিহ্ন নিয়ে ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীতে মৃত্যু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী এলমা চৌধুরী মেঘলার। এলমার অভিভাবকদের অভিযোগ, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।  

সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের পরও ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা কোনোভাবেই কমছে না। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর নারীর সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য নানা কর্মসূচি পালন করে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প তো রয়েছেই। তারপরও দেশে কমেনি নারী নির্যাতনের ঘটনা। 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, ২০২১ সালে ৩ হাজার ৭০৩ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৩৫ জন। এছাড়া ১৪টি কন্যাশিশুসহ ৩৩ জন শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। আর ৬২টি কন্যাশিশুসহ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৯৫ জন।  
২০২০ সালে দেশে ১ হাজার ৩৪৬ কন্যাশিশু ও নারী ধর্ষণের ঘটনাসহ মোট ৩ হাজার ৪৪০ জন নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে ২০১৯ সালে দেশে ১ হাজার ৩৭০টি ধর্ষণ, ২৩৭টি গণ-ধর্ষণসহ ৪ হাজার ৬২২টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৮ সালে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৯১৮টি। এর মধ্যে ধর্ষণ ৯৪২, ধর্ষণের পর হত্যা ৬৩ জনকে| ৪৮৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে ৫ হাজার ২৩৫ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বলেন, সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর অগ্রগতি বড় ভূমিকা রাখলেও ঘরের মধ্যে নারীর অবস্হা তেমন বদলায়নি। স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, মানসিক এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নারীরা। যে নারীরা উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন তাদের অনেককেই কোথাও না কোথাও যৌন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সাধারণ নারী থেকে প্রখ্যাত নারী সবাই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অবস্হা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নারীর প্রতি নির্যাতনকে সমাজ এখন কোনো বিষয় বলেও গ্রাহ্য করছে না। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের যেসব দেশে স্বামী বা সঙ্গীর হাতে নারী নির্যাতনের হার বেশি, সেসব দেশের তালিকায় এসেছে বাংলাদেশের নাম। দেশের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি নারীদের ৫০ শতাংশই জীবনে কখনো না কখনো সঙ্গীর হাতে শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তাদের তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি তিন জন নারীর এক জন জীবদ্দশায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুর‍্যো কর্তৃক পরিচালিত ২০১১ সালের জরিপ মতে, শতকরা ৮৭ ভাগ নারী স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্ট মতে, বাংলাদেশে ৬০ শতাংশ বিবাহিত নারী জীবনে কোনো না কোনো সময়ে স্বামী কিংবা তার পরিবার বা উভয়ের দ্বারা নির্যাতিত হন। 

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের ফেলো ডা. নাঈম আকতার আব্বাসী বলেন, প্রতিনিয়তই মানসিক নির্যাতন বেড়ে চলেছে। সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থাই এর জন্য দায়ী। শহরে শিক্ষিতের হার বেশি। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব কম। শহরের নারীরা নিজের অধিকার আদায়ে অনেকটা সোচ্চার। গ্রামে এখনো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বিদ্যমান। শিক্ষার হারও কম। নারীরা সচেতন নয়। এসব কারণেই শহরের চেয়ে গ্রামে সহিংসতা বেশি। 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গণপরিবহনে নারীর ভীতি, হয়রানির শিকার ৬৩.৪ শতাংশ নারীযাত্রী

বিশেষ সংবাদ

শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী

নানা উদ্যোগেও নারী নির্যাতন কমছে না

পুলিশে ৪৮ বছরে নারী সদস্য ৮ শতাংশ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মায়ের মমতায় দেশ চালালে জনগণ অবশ্যই সমর্থন দেবে: প্রধানমন্ত্রী

২৮ বছরে আড়াইগুণ বেড়েছে মেয়েদের পাসের হার: শিক্ষামন্ত্রী

নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে হাইকোর্টের রুল 

অর্থনৈতিক অধিকারে পিছিয়ে বাংলাদেশের নারীরা