জোলাপাড়া হাটে এখনো যেভাবে চুল-দাড়ি কাটা হয়

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২২, ১৭:৩০

আধুনিকতা ও ডিজিটালের ছোঁয়ায় অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটলেও গ্রামীণ হাট-বাজারে বসে চুল-দাড়ি কাটা নাপিতের কদর একটুও কমেনি। তারা আজও ধরে রেখেছেন বাপ-দাদার পৈত্রিক পেশা। এছাড়া কম টাকায় চুল-দাড়ি কাটার সুযোগ পেয়ে গ্রামের স্বল্প আয়ের লোকজন ছুটে যান ওই সব নাপিতের কাছে। 

এমনিভাবে চুল-দাড়ি কাটার পসরা সাজিয়ে বসেছেন উপজেলার জোলাপাড়া হাটের নাপিত বাঁধন চন্দ্র শীল, নিতাই শীল ও আবুল কাসেমসহ অনেকে। রবিবার এখানে হাট বসে। আশেপাশের গ্রাম থেকে হাটে আসা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এদের কাছে চুল-দাড়ি কাটেন। 

মফিজ উদ্দিন শেখ তাদেরই একজন। বয়স আশি ছুঁই ছুঁই। হাটে এসেছিলেন হাঁস বিক্রি করতে। একজোড়া দেশি হাঁস ৭০০ টাকার বিক্রি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার সেরেছেন। বাড়ি যাওয়ার আগে চুল-দাড়ি কাটাতে এসেছেন নিতাই শীলের কাছে। বসেছেন একটি পিঁড়িতে। এই কাজের জন্য নিতাই শীল পাবেন ৩০ টাকা। সস্তায় চুল দাড়ি কাটাতে পেরে মফিজ উদ্দিন শেখ দারুণ খুশি। তিনি প্রায় ৮০ বছর ধরে এভাবেই চুল-দাড়ি কাটছেন।

নিতাই শীল জানান, এটা তাদের তিন পুরুষের পেশা। তিনি এই হাটেই দুই টাকায় চুল ও এক টাকায় দাড়ি কেটেছেন। 

তার পাশেই আরেক বাক প্রতিবন্ধী নাপিত আবুল কাসেম দ্রুত কাজ করে চলেছেন। প্রতিবন্ধী হলেও চুল-দাড়ি কাটায় তার কাজের গতি বেশ। পিঁড়ি এগিয়ে দিয়ে তার কাছে আসা খদ্দেরদের ইশারায় সেখানে বসতে বলছেন। 
 

 

ইত্তেফাক/ইউবি