জাবিতে 'তানভীর মোকাম্মেলের চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ' শীর্ষক সেমিনার

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ১৩:২৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কলা ও মানবিকী অনুষদ এবং দর্শন বিভাগের যৌথ আয়োজনে ‘পাবলিক লেকচার: তানভীর মোকাম্মেলের চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ মার্চ) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের দর্শন বিভাগের ১০৩ নম্বর কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানীর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. এস. এম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, একুশে পদক প্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তানভীর মোকাম্মেল বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল এক মহাকাব্যিক ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আত্ম-পরিচয়ের সন্ধান দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্রের মধ্যদিয়ে আমরা ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করতে পারি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম আমরা সবাই জাতি হিসেবে সব সময় বাঙালি। সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজন মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। অথচ পশ্চিম পাকিস্তানের সেই সময়ের রাজনীতিকরা জাতি ও সম্প্রদায়কে অভিন্ন হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। 

তিনি আরো বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যখন বাঙালি মুক্তি সংগ্রাম শুরু করে, তখন পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা শুরু হয় এখানে। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায় ছিল সবচেয়ে বিপন্ন। নিম্নবর্গের হিন্দুদের দু:খ ও দূর্ভোগ ছিল ভয়াবহ। শরণার্থীদের অবস্থা ছিল করুণ। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে এসব দিক ফুটে উঠেছে। 

অনুষ্ঠানে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, জীবন ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র মানসপটে সব সময়ই জাগ্রত থাকে। তানভীর মোকাম্মেলের মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস ভিত্তিক চলচ্চিত্র বাঙালির আত্ম-পরিচয় ও ইতিহাস জানতে নতুন প্রজন্মকে সাহায্য করছে। তিনি তানভীর মোকাম্মেলের কাছে এ অঞ্চলে ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রবাহ নিয়ে আরও চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মুনির হোসেন তালুকদার, অধ্যাপক জহির রায়হান, অধ্যাপক শওকত হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক আবদুছ ছাত্তার, মোহাম্মদ উল্লাহ, শারমিন সুমি এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফরহাদুর রেজা প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এআই