হেলে পড়া নির্মাণাধীন স্কুলভবন সোজা করতে অভিনব পদ্ধতি

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ১৪:৩৬

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় নির্মাণাধীন পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হেলে পড়া ৪ তলা ভবন সোজা করতে অভিনব পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। 

জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি টেকনিক্যাল টিম ভবনটি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর ভবনটি হেলে পড়া রোধ ও সোজা করতে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন এ পদ্ধতি অনুযায়ী ভবনের সামনে (দক্ষিণাংশে) এবং পশ্চিম পাশে ভবনের কিছু অংশ বাদ রেখে ১২ ফুট চওড়া ও ১৪ ফুট গভীর ক্যানেল (খাল) খনন করা হচ্ছে। ক্যানেল থেকে উত্তোলিত পচা (জোবা) মাটি বস্তায় ভরে ভবনের পিছন ও পূর্ব পাশে ডোবা নালায় বাঁশের পাইলিং দিয়ে প্রায় ১২ ফুট চওড়া ও ১৪ ফুট উচ্চতায় বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত ৩ মার্চ নতুন এ পদ্ধতিতে কাজ শুরু করেছেন।
 
অপর একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ভবনটি যেখানে করার কথা ছিল, সেখানে নতুন ভবনটি নির্মাণ না করে কিছুটা সরিয়ে করা হয়েছে। যে জায়গায় নতুন ভবনটি করা হয়েছে সেখানের মাটি পরীক্ষা করা হয়নি। এছাড়া জায়গাটি বিল বা ডোবা হিসেবে থাকলেও বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের আগে তার স্থায়িত্ব নিয়েও ভাবা হয়নি। ফলে ভবনটি হেলে পড়ার পর এখন যেনতেন ভাবে ভবনটি টিকিয়ে রেখে কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদার বিল উত্তোলনের চেষ্টায় ব্যস্ত বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের পার-মাদারতলা এলাকার পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পান খুলনার দৌলতপুর এলাকার এম এস রৈতি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার স্বত্বাধিকারী টিপু হাওলাদার নামের এক ব্যক্তি। কাজটি ১৮ মাসের মধ্যে শেষ করার সময় বেধে দিয়ে ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয় ।

কাজটি তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত খুলনার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোহেল জানান, নতুন এ পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় লাগলেও ভবনটির পিছন দিকে হেলে পড়া রোধ হয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে আসবে বলে তারা আশা করছেন। 

শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে প্রকল্পের পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহ্ নইমুল কাদের সহ একটি টিম পরিদর্শন করার পর তাদের দেওয়া পদ্ধতিতে কাজ শুরু করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এআই