ভেজালের জঞ্জালে সংস্কৃতি কোন জালে?

আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ১৭:৫৭

হানিফ সংকেত

আসল-নকলের ধকল, জাল-ভেজালের জঞ্জাল এসব নিয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের নাভিশ্বাসে ক্রেতারা কোনো নির্ভেজাল আশ্বাস পাচ্ছে না। খাদ্যে ভেজালের জালে, কালে নয় অকালেই মৃত্যুপথযাত্রী হচ্ছে অনেকেই। ভেজাল শব্দটি যেন আমাদের দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। ভেজালের জাল এতটাই বিস্তৃত যে নকলের ভিড়ে আসল চেনাই কঠিন। সবজিতে কীটনাশক, ফলে কার্বাইড, মাছে ফরমালিন, দুধ-দইয়ে সিসা এবং দূষিত পানি! যাতে ঘটছে আমাদের স্বাস্থ্যহানী। তারপরও অনন্যপায় হয়ে বাজার থেকে এসবই আমরা কিনে আনি। এই ভেজাল এখন শুধু খাদ্যে বা পথ্যে নয়, সত্যে-তথ্যে-কথ্যেও।

 

এমন কী গণ্য-মান্য-স্বনামধন্য মানুষের চরিত্রেও ভেজাল। গান, নাটক, সিনেমা, লেখায়, রেখায় ভেজাল। ভেজাল ভালোবাসায়, ভেজাল রূপে। ভালোবাসার ভেজাল তো অহরোহ দেখছি আর আসল রূপ তো ঢাকা পড়ছে প্রসাধনের আড়ালে। বিয়ে-শাদিতে গেলে কনের রূপসজ্জা দেখলেই বোঝা যায় ওখানে বিউটি পার্লারের বিউটিশিয়ানদের কতটা শ্রম গেছে। এই রূপ বা ভালোবাসার ভেজাল যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয়, কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন ভেজালমুক্ত খাদ্য।

এই ভেজাল নিয়ে অনেক লেখালেখি, সেমিনার, মানববন্ধন, মিটিং, মিছিল, টকশো, এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশনা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। তারপরও সবকিছুকে বৃদ্ধাঙুল দেখিয়ে ভেজাল তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। আমরা বলি—সাবধানের মার নেই, কিন্তু সাধারণ মানুষ খাদ্য নিয়ে সাবধান হবে কী করে? ক্ষেতের তরতাজা সবজিতে কী মিশিয়েছে তা সাধারণ মানুষ বুঝবে কীভাবে? জার বা বোতলের পানি যে বিশুদ্ধ তার গ্যারান্টি পাবে কোথায়? যদিও অতি সম্প্রতি ওয়াসার ট্যাপের পানির চরিত্র সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া গেছে। আর পণ্যের গায়ে লেখা দেখলে হয়তো মেয়াদ আছে কী নেই সেটা বোঝা যায়, কিন্তু মাছ-মাংস-সবজি-তরকারি-তেল-ঘিসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের ভেজাল সম্পর্কে জানবে কী করে? ভেজাল পরিমাপের তো কোনো যন্ত্র নেই। এসব ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া মানে এগুলো না খাওয়া। অনেক পণ্যের গায়েও লেখা থাকে, ‘নকল হইতে সাবধান’। বাজারে যেতে গৃহিণী স্বামীকে সাবধান করেন, ‘ভেজাল থেকে সাবধান’। অনেক ব্যাংকে দেখেছি লেখা থাকে, ‘জাল টাকা থেকে সাবধান’। আবার কোনো বাড়ির প্রধান ফটকে লেখা থাকে, ‘কুকুর হইতে সাবধান’। যতই সাবধান হই না কেন নকল-জাল-ভেজাল থেকে আমাদের পরিত্রাণ নেই। এসব ভেজালে তাল হারিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন সবাই। সুতরাং সাবধান হয়েও লাভ নেই। তবে সাবধান থাকলে কুকুর থেকে বাঁচা যায়, আদর করে ডাকলে কুকুর কাছে আসে, কথা শোনে অর্থাত্ পশু হলেও কুকুরের কাছ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব, কিন্তু এসব ভেজালকারীদের কাছ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ এদের চরিত্র পশুর চেয়েও খারাপ।

তবে আজকে আমার লেখার বিষয় খাদ্যে ভেজাল নিয়ে নয়, সাংস্কৃতিক ভেজাল নিয়ে। গান-নাটক-সিনেমা অর্থাত্ মেধাভিত্তিক কিছু কাজ নিয়ে। প্রথমেই আসা যাক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে। অনেকেই বলেন, এখন টিভির দর্শক বিদেশি চ্যানেলমুখি। তবে এটাও সত্যি অধিকাংশ দর্শকই আমাদের দেশীয় অনুষ্ঠান দেখতে চান। কিন্তু তাঁরা তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী অনুষ্ঠান পান না বলেই বিদেশি চ্যানেলে বিদেশি অনুষ্ঠান দেখতে চান। মান কেন খারাপ এ নিয়ে নানা আলোচনা, লেখালেখি, এমনকি গণ্ডায় গণ্ডায় টকশোও হয়েছে। আলোচনা-সমালোচনায় যেকোনো ফল হয়নি তার প্রমাণ এখনো টিভিপর্দায় বিদ্যমান। এই যে ঈদ এসেছে শুরু হবে নাটকের নামে ভাঁড়ামির প্রতিযোগিতা, অর্থাত্ কে কতটুকু হাসাতে পারে। হাসি-তামাশা দিয়ে নির্মাতা বা অভিনেতা স্বীয় নির্মাণ এবং অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুললেও এসব দেখে দর্শকদের অস্বস্তি বাড়ে আর তখনই হাত পড়ে রিমোটে। শুধু অনুষ্ঠান নির্মাণই নয়, প্রচার সময়েও বৈচিত্র্য আনতে পারে না কেউ। সব চ্যানেলের সংবাদ, গানের অনুষ্ঠান, সিনেমাও প্রায় একই সময়ে। অনুষ্ঠানের বৈচিত্র্য নয়, পর্দা ভরানোটাই যেন অনেক ক্ষেত্রে মুখ্য। কথায় কথায় বাজেট সঙ্কট এবং বিজ্ঞাপন যন্ত্রণার কথা বললেও মানের দিকটা অনেকেই বিবেচনায় আনেন না। তাই দর্শকরাও বিদেশি চ্যানেলমুখি হয়ে পড়েন। অনেকেই বলেন, এসব থেকে মুক্তি পেতে বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করা উচিত, কিন্তু বিশ্বায়নের যুগে সেটা সম্ভব নয়। বরং আমাদের উচিত এদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামা। ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ করা। আমাদের ক্রিকেট প্লেয়াররা বিশ্বের ঝানু সব খেলোয়াড়দের সঙ্গে লড়ে একের পর এক বিজয় ছিনিয়ে আনছে। ওরা পারলে আমরা পারবো না কেন? ক’দিন আগে একজন সাংবাদিক বন্ধু আক্ষেপ করে বললেন, আমাদের দেশের প্রায় সব নির্মাতাই কোনো একটি ছবি নির্মাণ করে বিদেশের কোনো ফেস্টিভ্যাল বা পুরস্কার দাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠালে তিনি এবং তাঁর ছবি নানাবিধ পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় দেশের হলগুলোতে এসব পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবির অধিকাংশই চলে না। তাঁর মন্তব্য, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে—টিভির এসব ভাঁড়ামিপূর্ণ নাটকও যদি বিদেশে পাঠানো হয়, তবে ডজনখানেক পুরস্কার আনতে পারবে। এ আশায় বুক বেঁধে কেউ যদি গোটা দশেক ঈদের নাটক বানিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেন, তারপর ওখানকার কিছু সাদা চামড়ার লোকদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুক ভরাট করে ফেলেন এবং হাতে কিছু পুতুল নিয়ে কোনো পত্রিকার বিনোদন পাতায় হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকেন তাহলে আপনি কী করবেন! হাসবেন না কাঁদবেন? অভিযোগ আছে, অনেকে নাটক বানিয়ে টেলিফিল্ম করে ফেলেন, কেউবা টেলিফিল্মকে চলচ্চিত্রে রূপ দেন। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় শিল্পীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায়। অর্থাত্ এখানেও ভেজাল। আসলে আজকাল এসব মানহীন, বিকলাঙ্গ ও ভেজাল অনুষ্ঠানের কারণে কিছু কিছু চ্যানেলের আইসিইউতে যাওয়ার সময় হয়েছে।

টিভির প্রসঙ্গ বাদ, এবার একটু গানে আসি। গান এখন আর শোনার নয়, দেখারও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিভিতে মিউজিক ভিডিও ছাড়াও ইউটিউবে অদ্ভুত অদ্ভুত ভঙ্গিতে কিছু গান দেখা যায়। এসব দেখে কে যে নায়ক, কে যে গায়ক তা বোঝা মুশকিল। শীত কিংবা গ্রীষ্ম যেকোনো ঋতুতেই কালো একখানা সানগ্লাস চোখে লাগিয়ে প্রখর রৌদ্রে কোট পরে মরুভূমিতে না হলে পাহাড়ে দৌড়াচ্ছে নায়ক বেশে গায়ক। কখনো স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, কখনো অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে স্লো-মোশনে। ফাঁকে ফাঁকে কোনো মডেল কন্যার ইনসার্ট কিংবা গায়কের হস্ত দ্বারা মডেল কন্যার বুজে থাকা চোখ, নাক স্পর্শ করা। মিউজিকের তালে চোখের চাহনির নাচ, সে এক অদ্ভুত দৃশ্যায়ণ। এটাও ভালো বুদ্ধি, কারণ যাঁরা এসব দেখে তাঁদের কর্ণকুহরে গানের সুর বা কথা প্রবেশ করার সুযোগ পায় না। এসব দেখতে দেখতেই গান শেষ। এরপর আবার এই গানেরই ইউটিউব ভিউ নিয়ে হিউজ নিউজ। এরপর দেশে বিদেশে স্টেজ শো তো আছেই। কখনো আমেরিকা, কখনো সুইজারল্যান্ড, কখনো ভিয়েনা-ফ্রান্স না হলে দুবাই-কাতার। পাশাপাশি চ্যানেলগুলোর লাইভ শো, তারকা আড্ডা আর ভাইয়া ভাইয়া ডাক তাঁদের নিয়ে যায় ভিন্ন এক জগতে। যতই স্টেজ শো করুক না কেন, এদের জ্বালা ধরা বেসুরো গানের জ্বালায় মানুষ ছুটে পালায়। সব গানেই যে নাচা-নাচি করতে হবে সেটা ঠিক নয়। নাচা-নাচির গানও আছে। সেটা ক্ষণিকের আনন্দ দেওয়ার জন্য। নাচের উপযোগী করেই সেই গান তৈরি করা হয়। আমরাও মাঝে মাঝে এ ধরনের গান করে থাকি তারকাদের অংশগ্রহণে ঈদের অনুষ্ঠানে। কিন্তু সেসব গানের আবেদন ক্ষণিকের। তবে সেটা মৌলিক গান নয়। মৌলিক গানের সঙ্গে শিল্পীর নাচ কোনোক্রমেই যায় না, বরং তা গানের আবেদন নষ্ট করে।

স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, বাংলা গানের এই দুর্দশা কেন? প্রথমত, আগের তুলনায় এখন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা কম। শিল্পী মাত্রই তার সঙ্গীত শিক্ষা ও চর্চা প্রয়োজন। সেটা এখন রিয়েলিটি শোয়ের তাণ্ডবে হঠাত্ করে গাড়ি-বাড়ি প্রাপ্তির কারণে কেউই করে না। বরং ১০টি গান গেয়ে স্বগৃহে স্টুডিও দিয়ে নিজেই গীতিকার, সুরকার, গায়ক বনে যান। যে কারণে সঙ্গীতশিল্পে এদের গড় আয়ু ১ থেকে ৫ বছর। আর যে গায়ক নায়কসুলভ অঙ্গভঙ্গিতে পারদর্শী এবং অধিক অর্থ ব্যয়ে মিউজিক ভিডিও নির্মাণে সক্ষম সে এই ভিডিওর কল্যাণে কিছুটা দীর্ঘ জীবন পেতে পারে। তবে দেখার মজা শেষ হলে এদেরও বিদায় নিতে হয়। আগে গীতিকার গান লিখতেন, সুরকার সুর করতেন এবং যন্ত্রানুসঙ্গে নেতৃত্ব দিতেন। দেশের বিখ্যাত সব যন্ত্রশিল্পীরা বাজাতেন। আর এখন ছোট একটি ঘরে আধো অন্ধকারে ভৌতিক পরিবেশে সঙ্গীত স্রষ্টা বসেন। নেই কোনো যন্ত্রশিল্পী, নেই কোনো সুরকার। তিনি নিজেই সব। আর আছেন কম্পিউটার বাবাজী। তাহার কৃপায় যা পায় তাতেই ধন্য। আগের সুরকাররা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেও ছিলেন পারদর্শী। ফলে বিভিন্ন রাগ ব্যবহার করে সুর করতেন। আগে অধিকাংশ গানেই বাঁশি, দোতরা ছাড়াও এস্রাজ, সেতার এসব যন্ত্র ব্যবহার করা হতো। অনেক নতুন শিল্পী এখন সেতার বা এস্রাজ দেখেছে বলেও মনে হয় না। এখনো সেই ৬০-৭০ দশকের গানের রিমিক্স হয়। ভালো গান হবে কী করে? এখন গানের কথা আর শিল্পীর কণ্ঠ যন্ত্রের শব্দে চাপা পড়ে যায়। অথচ সেকালের গানগুলোর প্রতিটি কথাই স্পষ্ট। এখন স্পষ্ট করেই বা লাভ কী, গানের কথার যা শ্রী। তাছাড়া এদের অনেকেরই ছন্দজ্ঞানই নেই। গানের সঞ্চারী অস্থায়ী কোনটা সেটাও জানে না। যাঁর যা মনে আসে লিখে যাচ্ছে। নিজের মতো সুর করছে। অন্তরস্থ করে গাওয়ার যে আবেগ তা খুঁজে পাওয়া যায় না গানে। আগে আমাদের দেশে গান লিখতেন আহসান হাবিব, আজিজুর রহমান, সিকান্দার আবু জাফর, শামসুর রাহমান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সৈয়দ শামসুল হক, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের মতো বিখ্যাত মানুষরা। আর এখন গান লেখাতে গেলে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের কথাই সর্বাগ্রে মনে পড়ে।

মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শচীন দেববর্মণ, সলিল চৌধুরী, সতিনাথ, শ্যামল মিত্র, কমল দাশগুপ্ত, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মতো সেকালের শিল্পীরা যে গান গেয়ে গেছেন, তা আজো সঙ্গীতপ্রিয় প্রতিটি শ্রোতার অন্তর ছুঁয়ে যায়। তখন যন্ত্রের এত প্রচলনও ছিল না। তেমনি আমাদের আব্বাসউদ্দিন, আবদুল আলীম, ফেরদৌসী রহমান, সৈয়দ আব্দুল হাদী, আবদুল জব্বার, রফিকুল আলম, রথীন্দ্রনাথ রায়, রুনা লায়লা, শাহনাজ রহমতউল্লাহ, সাবিনা ইয়াসমিন, সুবীর নন্দীর মতো শিল্পীদের হাজারো গান রয়েছে, যার কোনো কাল বিচার নেই। অধিকাংশই কালজয়ী। সেই তুলনায় এখনকার গানে দশক তো দূরের কথা ১ বছরও পূর্ণ হতে পারে না। কারণ এখনকার গান তো গান নয়, এগুলো মিউজিক ভিডিও নির্ভর স্লোমোশন সঙ্গীত। এরপর আছে ভেজাল। এখন গানের কথায় ভেজাল, সুরে ভেজাল, বাদ্যযন্ত্রেও ভেজাল। টিউনার দিয়ে ঠিক করা হয় সুর। সুরকাররা যদি অন্যের সুর গ্রহণ না করে সৃজনশীল হন তবেই সঙ্গীতশিল্পে নবজাগরণ ঘটবে। কারণ আমাদের এই প্রজন্মে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক রয়েছে। যাঁদের নিজের সৃষ্টির দিকে মনোযোগী হতে হবে। তারপরও এখনো ২/১টা ভালো গান হয়। তবে তা শিল্পীর সংখ্যার তুলনায় অনেক কম।

ইদানিং দেশে ভেজাল ও দূষিত খাদ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, পচা-বাসী খাবার ইত্যাদির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাত্ক্ষণিকভাবে অর্থ বা কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খাদ্যে, পানিতে, ফলমূলে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় এমনভাবে সবসময় ভেজাল নিরোধকল্পে যদি মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম হতে পারে, তবে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে নয় কেন? সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ভেজালের কারণে তো দেশের সংস্কৃতিই হুমকির সম্মুখীন।

কিছুদিন আগে ইত্যাদিতেও দেখিয়েছিলাম ২/১টি চ্যানেলে বনে-বাদাড়ে-জঙ্গলে যে পরিবেশে এবং উপকরণ দিয়ে রান্না করা হয় তাও মোবাইল কোর্টের আওতায় আনা প্রয়োজন। কারণ এসব অনুষ্ঠানের রান্না স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব নয়, বরং পরিবেশকে দূষিত করছে। তাই এসব অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া উচিত। আজকাল গানের সুর, কথা ও গায়কী এবং বাদ্যযন্ত্রের চিত্কার মনকে প্রশান্ত না করে উদ্দীপ্ত না করে তিক্ত-বিক্ষিপ্ত করে তোলে। ভেজাল পণ্যের মতো সুর নকল, কথা চোর ও ভেজাল গায়কদের স্টুডিওতেও হানা দিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ এরা আমাদের সংস্কৃতির ক্ষতি করছে, দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। মনে রাখতে হবে সব গান যেমন গান নয়, সব শিল্পীও তেমনি শিল্পী নয়। সুর আবেগ আর অনুভূতির গভীরতা নিয়ে রুচি স্নিগ্ধ হোক গান। সঙ্গীতের প্রকৃতিকে বিকৃতির দিকে ঠেলে না দিয়ে চর্চা করাই উত্তম। তবেই আমরা পাবো শুদ্ধ সঙ্গীত। না হলে ভেজালের জঞ্জালে সংস্কৃতি যে কোন জালে আটকা পড়বে তা বলা মুশকিল।

 

লেখক :দেশবরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব