গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর থেকে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) পর্যন্ত টানা ২০ দিনের মতো চলছে ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাত।
ইউক্রেনে পুতিন আগ্রাসন চালাতে পারেন, এমন শঙ্কায় পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরু হয় ‘দৌড়ঝাপ’। এ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের শীর্ষ নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন, দিয়েছিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি। কিন্তু কোনোভাবেই তারা রুশ প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে দমাতে পারেননি।
চলমান আগ্রাসনে একে একে ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী শহরগুলো দখল করছে রুশ বাহিনী। তবে এখনো রাজধানী কিয়েভ দখল করতে পারেনি তারা। এসবের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিষেধাজ্ঞার ঝড় এসে চেপেছে রাশিয়ার ওপর। দেশটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত দেশ। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এসব কারণে বিশ্বের অনেক নামি-দামি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে রাশিয়া ত্যাগ করছে। গত সপ্তাহে এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে পেপসি, কোলাকোলা, ম্যাকডোনাল্ডস, স্টারবাকসের মতো প্রতিষ্ঠান। সেবা দেওয়া বন্ধ করেছে মাস্টারকার্ড।
রুশ ব্যাংকগুলোকে বের করে দেওয়া হয়েছে সুইফট সিস্টেম থেকে। এতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে রুশ অর্থনীতি। সেইসঙ্গে ডলারের বিপরীতে প্রতিনিয়ত রুশ মুদ্রার দরপতন ভাবিয়ে তুলছে মস্কোকে।
নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি চলমান আগ্রাসনে দুই পক্ষে নিহতের ঘটনাও সামনে এসেছে। যার কোনো কোনোটি এখন পর্যন্ত যাচাই করতে পারেনি গণমাধ্যম। অভিযানে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর দখলের পাশাপাশি রাশিয়াকে তার সৈন্যও হারাতে হচ্ছে। ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার ১২ হাজারের বেশি সৈন্য নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় ৬০০ বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে। আহত হয়েছে সহস্রাধিক। দেশটির ২৫ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছে। আর ইউক্রেনের মধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়ার অভিযানে তাদের অন্তত ১ হাজার ৩০০ সৈন্য নিহত হয়েছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগোর কোনাশেঙ্কভ দাবি করেন, ইউক্রেনে এ পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ওলেগ উস্তেনকো গত ১০ মার্চ জানান, দেশটির অন্তত ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ-সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। ৫০ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। রাস্তাঘাট, সেতু, হাসপাতাল, নানা ধরনের সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলছে, ইউক্রেনে যুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে খাদ্যের দাম ৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এটা স্পষ্ট নয় যে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন এবার ফসল তুলতে পারবে কি না, তাছাড়া রুশ খাদ্য রফতানি নিয়েও উদ্বেগ আছে।
অথচ অভিযানের ২০তম দিনে এসেও আগ্রাসন কমায়নি রুশ বাহিনী। আজ ভোরেও একাধিক বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইউক্রিনফর্ম এক প্রতিবেদনে দাবি করে, রাজধানী কিয়েভের একটি ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ভোরে শহরটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর এই খবর সামনে এলো।
