বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মেধাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় মানুষকে বোকা বানানো সম্ভব না: শেখ পরশ

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ২১:২৯

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন, আমরা চাই একটা বিজ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা। এই সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের জন্য সর্বপ্রথমে দরকার যুক্তিনির্ভর পরিবেশ ও মন-মানসিকতা। বিজ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা সৃষ্টি হলে মানুষকে বোকা বানানো সম্ভব না। 

মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) অমর একুশে বইমেলায় নজরুল মঞ্চে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রকাশনা ‘বিপ্লব ও মানবিকতা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। 

এর আগে বাদ যোহর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির সহধর্মিণী শহীদ আরজু মণি সেরনিয়াবাত-এর ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় এবং দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

‘বিপ্লব ও মানবিকতা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, বিপ্লব ও মানবিকতা সরলীকরণ করলে ‘বিপ্লব’ শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় আত্মসচেতন পরিবর্তন। বিভিন্ন ধরনের বিপ্লব আছে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্রের সহস্র বিপ্লবও আছে আবার গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনও এক ধরণের বিপ্লব। ‘বিপ্লব ও মানবিকতা’ শিরনামের পেছনে আমাদের যেই চিন্তাটা কাজ করেছে, সেটা হল: রাজনীতির গুণগতমানের পরিবর্তনের জন্য আমরা ২০১৯ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। এই লক্ষ্যে আমরা যেই পন্থা অবলম্বন করেছি সেটা হচ্ছে মানবিক পন্থা আমরা রাজনীতির মৌলিক নীতিতে ফেরত যেতে চেষ্টা করছি যেমন সেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, বাসস্থান করে দেওয়া, টেলিমেডিসিন প্রভৃতি। এই গ্রন্থটাতে যুবলীগের নেতৃবৃন্দের লেখনীয় মধ্য দিয়ে, আমাদের কাজের কিছু বিবরণ পাবেন যেমন-একই সঙ্গে বিপ্লব ও মানবিকতার তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণও পাবেন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিপ্লবী হচ্ছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনি বাল্যকাল থেকে পরিবর্তনের জন্য সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর অধিকার আদায়ের জন্য বিপ্লব করে গেছে। তরুণ মুজিব ব্রিটিশ সাম্রজ্যবাদের বিরুদ্ধে, পাকিস্তান সৃষ্টির লক্ষ্যে একজন মাঠ পর্যায়ের কর্মী হিসাবে বিপ্লবে অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর, সেই পাকিস্তানিরা তাকে নির্যাতন-শোষণ শুরু করে। ভাষা আন্দোলনে তার বিপ্লবী এবং প্রতিবাদী ভূমিকা এবং পরের ইতিহাস আপনাদের জানা। বিপ্লবের সঙ্গে মানবিকতার যোগসূত্রটা সেখানেই, যেখানে বিপ্লব মানবিক অধিকার আদায়ের জন্য করা হয়।

ছবি: ইত্তেফাক

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব বাহিনীর প্রধান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি প্রতিষ্ঠা করেন যুবলীগ। যুবলীগ কি উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা আপনারা জানেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, চারদিকে হায়েনার ছোবল, অসহায় মানুষের ওপর নির্যাতন, সবমিলিয়ে সেই সময় যুবশক্তির খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। সেই যুবশক্তিকে দেশ গড়ার কাজে নিয়োগের জন্যই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই যুবশক্তির উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যেন স্বাধীনতা বিরোধীরা মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে এবং দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে উদ্ধার করা।

তিনি আরও বলেন, যুবলীগ গণতন্ত্র রক্ষায় সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। রাজনীতির আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি যুবলীগ বিভিন্ন সময়ে মানবিক কার্যাবলীর কারণে মানুষের কাছে বেশি পরিচিতি পেয়েছে। করোনা মহামারির সময় দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে তার স্বাক্ষর রেখেছে যুবলীগ। আর এই কারণেই এই গ্রন্থটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বিপ্লব ও মানবিকতা’। আপনারা বই পড়বেন, বই পড়তে মানুষকে উৎসাহ দিবেন।

বিপ্লব ও মানবিকতা গ্রন্থটির সম্পাদক ও প্রকাশক শেখ ফজলে শামস্ পরশ, নির্বাহী সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সম্পাদনা সহযোগী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম মিল্টন, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাড. নবীরুজ্জামান বাবু। বইটির শুভেচ্ছা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ টাকা। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সুইডিশ ভাষায় রূপান্তর করাসহ আরও দুইটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন-যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, মো. নবী নেওয়াজ, মো. এনামুল হক খান, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, তাজউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, জহির উদ্দিন খসরু, সোহেল পারভেজ, আবু মুনির মো. শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, মশিউর রহমান চপল, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন রানা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম মিল্টন, অর্থ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মো. শামছুল আলক অনিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মোস্তাফিজ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ডা. মো. ফরিদ রায়হান, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক অ্যাড. মো. হেমায়েত উদ্দিন মোল্লা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুল মুকিত চৌধুরী, ধর্ম সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান সরদার, মহিলা সম্পাদক অ্যাড. মুক্তা আক্তার, উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, উপ-গ্রন্থনা প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাড. শেখ মো. নবীরুজ্জামান বাবু, উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হাসান সুপ্ত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফজলে রাব্বী স্মরণ, উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ডা. মাহফুজুর রহমান উজ্জল, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. আবদুর রহমান, উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সামছুল ইসলাম পাটোয়ারী, উপ-কৃষি ও সমবায় সম্পাদক মোল্লা রওশন জামির রানা, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম, উপ-ধর্ম সম্পাদক হরে কৃষ্ণা বৈদ্য, উপ-মহিলা সম্পাদক সৈয়দ সানজিদা শারমীন, সহ-সম্পাদক মো. আতাউর রহমান উজ্জল, মো. রাজু আহমেদ, মো. মাইদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আরাফাত হোসেন খান, জামিল আহমেদ, মো. আবদুর রহমান জীবন, নাজমুল হুদা ওয়ারেছী চঞ্চল, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. আলমগীর হোসেন শাহ জয়, মো. বাবলুর রহমান বাবলু, আহতাসামুল হাসান ভূঁইয়া রুমি, মো. রাশেদুল ইসলাম সাফিন, মো. আবু রায়হান রুবেল, সাইফুল ইসলাম সাইফ, মো. মনিরুজ্জামান পিন্টু, কার্যনির্বাহী সদস্য এ কে এম মহিউদ্দিন খোকা মজুমদার, সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টু, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, অ্যাড. এম এ কামরুল হাসান খান আসলাম, অ্যাড. মো. গোলাম কিবরিয়া, শেখ মাতিন মুসাব্বির সাব্বির, প্রফেসর ড. মো. আরশেদ আলী আশিক, আবুল কালাম আজাদ, শাম্মি খান, মো. শহিদুল ইসলাম লাকি, রাজু আহমেদ ভিপি মিরান, মো. আ. রহিম ভূইয়া, ইঞ্জিনিয়ার মো. মুক্তার হোসেন চৌধুরী কামাল, ইঞ্জিনিয়ার মো. আসাদুল্লা তুষার, মানিক লাল ঘোষ, মো. নূর হোসেন সৈকত, নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া, ব্যারিস্টার চৌধুরী মৌসুমি ফাতেমা, মো. তারিক আল মামুন, মো. ওলিদ হোসেন, ডা. মো. আওরঙ্গজেব আরু, অ্যাড. মো. সাজেদুর রহমান চৌধুরী বিপ্লব, বিকাশ চন্দ্র হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম উজ্জলসহ কেন্দ্রীয় মহানগর ও বিভিন্ন ওয়ার্ড যুবলীগের নেতৃবৃন্দ।

ইত্তেফাক/এএএম