রুশ ধনকুবের বা অলিগার্ক রোমান আব্রামোভিচ কীভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের ভাগ্য গড়েছেন। ১৯৯৫ সালে রাশিয়ার সরকারের কাছ থেকে নিলামে একটি তেল কোম্পানি কিনেই বিলিয়নিয়ার বনে গিয়েছিলেন তিনি। তবে নিলামটি নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।
আব্রামোভিচ ব্রিটিশ ফুটবল ক্লাব চেলসির মালিক। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার দায়ে যুক্তরাজ্য সরকার তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তার সম্পদ ইতোমধ্যেই জব্দ করেছে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি চেলসি ক্লাবের ডিরেক্টর পদের জন্য তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের এক আদালতে আব্রামোভিচ ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছেন, তেল কোম্পানি সিবনেফ সংক্রান্ত এক চুক্তির সময় তার অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে তিনি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিবিসি প্যানারোমা একটি দলিল হাতে পেয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এ অর্থ রাশিয়ার বাইরে পাচার হয়েছে। প্রাপ্ত দলিল অনুযায়ী রুশ কর্তৃপক্ষ প্রতারণার আব্রামোভিচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে চেয়েছিল।
রোমান আব্রামোভিচ ২০০০ সালে পুতিন ক্ষমতায় আসার পরেও ক্রেমলিনের ভেতরে তার শক্ত অবস্থান ধরে রাখেন। প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, দুই বছর পর রাশিয়ার আরেকটি তেল কোম্পানি স্লাভনেফট নিয়ে আরেকটি দুর্নীতিগ্রস্ত নিলাম হয়েছে। আব্রামোভিচ স্লাভনেফট কিনতে অংশীদার চুক্তিতে আরেকটি কোম্পানি গঠন করেন। কিন্তু একটি চীনা কোম্পানি প্রায় দ্বিগুণ মূল্য হাঁকাচ্ছিল। ক্রেমলিন থেকে শুরু করে রুশ পার্লামেন্টের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিই হেরে যেত চীনা কোম্পানিটি নিলাম জিতলে। দলিল বলছে, শেষ পর্যন্ত নিলামের জন্য মস্কো আসার পর চীনা প্রতিনিধি দলটির একজন সদস্য অপহূত হন। শক্তিশালী চীনা কোম্পানি সিএনপিসি শেষ পর্যন্ত তাদের একজন প্রতিনিধি অপহরণের পর নিলাম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়।
আব্রামোভিচের আইনজীবী অবশ্য বলছেন, স্লাভনেফট ও সিবনেফ নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা। এমনকি আব্রামোভিচের পক্ষে ইয়েলিৎসিনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
