বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ৩ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‌‘নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে হবে’

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২২, ০৯:০৬

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, ‘আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, কিন্তু নারীর বঞ্চনা, হয়রানি ও নিপীড়নের অবসান এখনো শেষ হয়নি। এখনো গৃহস্থালি কাজে নারীর ভূমিকার স্বীকৃতি মেলেনি। করোনা মহামারিতে নতুন যে দারিদ্র্য, যে ঝরে পড়া, তার প্রধান শিকার নারী। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তা হলেই বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না’ গত সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এ সব কথা বলেন। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে এক জন সংবাদকর্মী ও একজন তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিকে সম্মাননা জানানো হয়। এনজিও বিষয়ক বু্যরোর মহাপরিচালক কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, দেশের সংবিধানেও সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের এই অধিকার বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কাজ করে চলেছে। নারীদের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য নারী দিবসকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমিত না রেখে প্রত্যেককে প্রত্যেকের জায়গা থেকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যেতে হবে।

মানবাধিকারকর্মী শীপা হাফিজা বলেন, সমাজে নারীরা যতদিন পিছিয়ে থাকবে, মর্যাদার জায়গায় আসীন হতে পারবে না ততদিনও পুরুষরাও এগিয়ে থাকতে পারবে না। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহসম্পাদক ও এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম বলেন, এত কিছুর পরেও বাল্যবিবাহ নামক মহামারি রোধ করা যাচ্ছে না। এই মহামারি রুখতে হলে নতুন করে কাজ করতে হবে। কন্যাশিশুদের সচেতনতা এবং নিজেদের লক্ষ্য স্হির করতে হবে। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বাবা-মাকে বোঝাতে হবে। ডিস্টেট চিল্ডে্রনস অ্যান্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এহছান হক বলেন, সরকার এবং ফোরামের মতো প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কারণেই নারীদের এত উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু একটা বিষয় হলো গৃহস্থালি কাজে নারীর ভূমিকা স্বীকৃতি পাচ্ছে না। ছোটবেলা থেকেই নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।

গুডনেইবারস বাংলাদেশে কান্ট্রি ডিরেক্টর মাঈনুদ্দীন মাইনুল বলেন, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না। করোনা মহামারির ফলে নতুন যে দরিদ্রতা, নতুন যে ঝরে পড়া তার প্রধান শিকার হচ্ছে নারী। এই সংকট মোকাবিলা করতে হলে রাষ্ট্রীয় পর্যায় এবং বেসরকারি পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। থার্ড জেন্ডার সম্প্রদায় থেকে নির্বাচিত দেশের প্রথম চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম রীতু বলেন, ‘আমি শিক্ষিত না হলেও জনগণের সেবা কীভাবে করতে হয়, সেটা জানি। জনগণ পাশে থাকলে ভোটের সময় যুদ্ধ করা লাগে না। জনগণের ভালোবাসার ফলেই আমি ভোটে জয়ী হয়েছি।’ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা অনেক দূর এগিয়েছি, কিন্তু নারীরা এখনো বঞ্চনা, হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার। নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই পথের কাটা সরে যাবে। বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।’

ইত্তেফাক/কেকে