সিরাজগঞ্জের তাড়াশে খালকুলা-মাটিয়া মালিপাড়া সড়ক মেরামতে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিকে ঠিকাদার মন্তব্য করেছেন, ‘মালামালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যে কারণে সঠিকভাবে কাজ করা যাচ্ছে না।’
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) দুপুরে এই সড়কের মাটিবাহী ড্রাম ট্রাক বেপরোয়া চলাচলের সময় মাটিয়া মালিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দোতলা ভবনে ধাক্কা দিলে ভবনের কোণার মুল পিলারের কিছুটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সরেজমিনে বিকেলে তা দেখার জন্য গেলে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০০ মিটার খালকুলা বটতলা থেকে মাটিয়া মালিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত গ্রামীণ সড়ক মেরামতের নানা অভিযোগ করেন সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ও ঘোনা কুচিয়ামাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন, মাটিয়া মালিপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা গোলজার আলী শেখ, শওকত আলী, নজরুল ইসলামসহ অনেকে।
তারা বলেন, ‘সড়কের মেরামত কাজের শুরুতেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় পরিমাণে অল্প মাটি ফেলা হচ্ছে। মাটিয়া মালিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সারে পাঁচ বিঘা আয়তনের কানি পুকুরের পাড়ে স্লাব না করে মাটি দিয়ে সড়ক বাঁধা হচ্ছে।’
তারা আরও বলেন, ‘এর আগে এঁটেল মাটি দিয়ে স্লাব করা সড়ক বেশিদিন টেকেনি। যেভাবে মাটি ফেলে সড়ক বাঁধা হচ্ছে তাতে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের মাটি ধসে যাবে। একই সঙ্গে পাকা সড়ক ভেঙে কৃষি জমি ও পুকুরে বিলীন হয়ে যাবে।’
এদিকে মাটিয়া মালিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম রুহুল আমিন বলেন, ‘সড়কের মাটিবাহী ড্রাম ট্রাক বেপরোয়া চলাচল করে। একটি ট্রাক বিদ্যালয় ভবনে ধাক্কা দিলে ভবনের কোণার একটি মূল পিলারের বেশ খানিকটা অংশ ভেঙে গেছে। সেসময় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মানিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আব্দুর রশিদ নামে এক ব্যক্তিকে মাটিয়া মালিপাড়া সড়ক মেরামতের দেখভাল করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি সরজমিনে না দেখে কোন মন্তব্য করতে পারব না।’
এদিকে ট্রাকের ধাক্কায় বিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জনরোষে পড়ে পালিয়ে যান আব্দুর রশিদ। তবে মুঠো ফোনে তিনি বলেন, ‘ইট, পাথর, বিটুমিন, রড, সিমেন্ট, বালি সবকিছুর দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তাছাড়া আমি ভেবেছিলাম আশপাশেই সড়কে দেওয়ার জন্য মাটি পাওয়া যাবে। কিন্তু অনেক দূর থেকে মাটি এনে সড়কে দিতে হচ্ছে। তাই পরিমাণে অল্প দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাটি ভেঙে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের নিজ দায়িত্বে সড়কে দূর্বাঘাস লাগিয়ে দিতে বলেছি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন বলেন, ‘মাটিয়া মালিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর স্থানীয়দের উচিত ছিল মাটিবাহী ড্রাম টাক আটকে রাখা। এখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইফতেখার ছারোয়ার ধ্রুব দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘মাটিয়া মালিপাড়া সড়কের মেরামত কাজে স্থানীয়দের কাছে যেসব অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে সেসব ঠিক করে ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ বুঝে নেওয়া হবে।’
