বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যানজট-ধুলোয় নাকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২২, ১৭:৩৫

অসহনীয় যানজট আর ধুলোর সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই করছেন টঙ্গী-গাজীপুরে বসবাসরত কয়েক লক্ষ সাধারণ মানুষ। টঙ্গী বাজার থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে উড়তে থাকা ধুলো রূপ নিয়েছে ধুলোর কুয়াশায়। রাস্তার ধুলোর দাপট দেখে মনে হয় বিধ্বস্ত কোনো নগরী। ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশের ভবনেও শুধু ধুলার আস্তর। 

ঘর থেকে সড়কে বের হলেই ধুলোর কবলে পড়তে হয় এলাকার শিক্ষার্থীসহ সব পেশার মানুষদের। সব ধুলো নিয়েই দম বন্ধ অবস্থায় চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে। করোনাকালীন এই সময়ে সবার মুখে মাস্ক নিয়েও ধুলো থেকে রক্ষা মিলছে না এই সড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু ও রোগীদের পড়তে হচ্ছে বেশি দুর্ভোগে। পরিবেশ দূষণ রোধ বিধিমালা কিংবা পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিমালা এর কোনোটারই পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না স্থানীয় বাসিন্দাদের।

অতিরিক্ত ধুলোর কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নগরবাসী ঝুঁকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। টঙ্গী থেকে গাজীপুর সড়কের দুই পাশ জুড়ে ১৭ কি. মি. রাস্তা পুরোটাই ধুলার ঘনত্বের মুখোমুখি হতে হয় মানুষকে। ধুলোমাখা এই রাজপথে হাঁটার কোনো পরিবেশ নেই। মূল কারণ বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ, ভাঙাচোরা রাস্তা ও ইটভাটার ধোঁয়া এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটারজুড়ে সড়কে নির্মাণকাজ চলছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিআরটি প্রকল্প এবং সিটি করপোরেশনের রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প চলমান থাকায় প্রতিনিয়ত ভারী হচ্ছে বায়ুদূষণ। গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও বিআরটি প্রকল্প প্রতিদিন সকাল বিকাল দুই বেলা সড়কে পানি ছিটানোর নিয়ম থাকলেও সপ্তাহে একদিন পানি ছিটানো হচ্ছে না। ফলে দিন দিন ধুলোর ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে করে ব্যস্ততম এই সড়কে সাধারণ মানুষ চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও বিআরটি প্রকল্প পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ধুলোবালিতে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। প্রচুর ধুলোবালিতে নানা সংকটে পড়তে হচ্ছে রাস্তায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের। ভাঙ্গা সড়কে রাত দিন দীর্ঘ যানজট লেগে থাকায় অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্তের পাশাপাশি ড্রেস নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়ছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। 

টঙ্গী আহসানউল্লাহ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পারভেজ হেসেন বলেন, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রতিদিন অন্তত এক থেকে  দেড় শতাধিক মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে টঙ্গী ও গাজীপুর হাসপাতালে আসছেন। যা এক বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল ২০-৩০ জন। 

পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুরের উপপরিচালক আবদুস সালাম সরকার বলেন, গাজীপুরে বায়ুদূষণের মূল কারণ ইট ভাটা এবং সড়ক নির্মাণের চলমান কাজ। তবে ধুলোবালির দূষণ থেকে রক্ষায় পানি ছিটানোর তাগাদাসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ধুলো-বালির দূষণ থেকে রক্ষায় সড়কে পানি ছিটানোর তাগাদাসহ সংশ্লিষ্ট বিআরটি প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব শর্তের মধ্যে থেকে এই নির্মাণকাজ করার কথা, বিআরটি প্রকল্প তা মানছে না। এব্যাপারে বিআরটি প্রকল্প পরিচালক মহিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেলো বেলায়েতের 

যুবলীগের চেয়ারম্যানের জন্মদিনে সেলাই মেশিন পেলেন বিধবা

সাভারে কলেজশিক্ষককে হত্যা: অবশেষে প্রধান অভিযুক্ত জিতু গ্রেফতার

কাপাসিয়ায় বনের কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় এনজিও কর্মকর্তার মৃত্যু

সাবেক স্ত্রীর ওড়নায় ঝুলছিল যুবকের লাশ

ঝুট গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুরে ঝুটের গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট