গেটে জং ধরা তালা, কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন এমপি

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬

আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যখাতের এক করুণ চিত্র দেখতে পেয়েছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র হঠাৎ পরিদর্শনে যান তিনি। 

এসময় তিনি গিয়ে দেখেন প্রধান ফটকে জং ধরা তালা ঝুলছে। তবে গেট বন্ধ থাকলেও ভেতরে গল্পগুজবে ব্যস্ত কয়েকজন মাঠকর্মী, এ সময়ে তাদের মাঠে থাকার কথা। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর পাশের ভাঙা দেয়ালের ওপর থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে সেই দেওয়াল টপকে ভেতরে ঢুকেন তিনি।

এদিন আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ চিত্র দেখতে পান তিনি। এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান।

সাংবাদিকদের অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, গেটে লাগানো তালা দেখে মনে হলো, বহুদিন আগে লাগানো, ইদানিং খোলা হয়নি। তালায় জং ধরে গেছে। এখানে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জনবলও নাই। প্রত্যন্ত এএ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াটা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের পক্ষেই শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া সহজ নয়। ঢাকায় গিয়েও চিকিৎসা নেওয়া তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। তাই স্থানীয় পর্যায়েই এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম সচল থাকা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে তার পরিদর্শনে। তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, এমপির পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভেতরে ছিলেন গাজীপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাসান আল মামুন। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পার্শ্ববর্তী আজুগিরচালা গ্রামের বাসিন্দা। এ বিষয়ে হাসান আল মামুন বলেন, আমি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কেউ নই। আমি পরিবার পরিকল্পনা সেক্টরের। তবে ওই কেন্দ্রে কোনো পদে কেউ না থাকায় আমরা পরিবার পরিকল্পনার কর্মীদের নিয়ে মিটিং করি, মাঝে মধ্যে বসি। এ কারণে আমার কাছে চাবি নিয়ে রেখেছি।

ওই এলাকার বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ হক বলেন, সাত থেকে আট বছর ধরে এভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পড়ে আছে। কোনো ডাক্তার নেই, কর্মী নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ের এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। 

চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আধুনিকায়ন ও ১০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় এমপি অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ডিও লেটার দিয়েছেন। ডিও লেটার দেওয়ার পর হঠাৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি গতকাল এমন দৃশ্য দেখতে পান।

 

 

 

ইত্তেফাক/এনটিএম