রেললাইনের পার্শ্বে অবৈধ বাজার

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩১

মঙ্গলবার ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় বড় করিয়া একটি ছবি ছাপা হইয়াছে। কর্তৃপক্ষ বারংবার উচ্ছেদ করিবার পরও রাজধানীর জুরাইনে রেললাইনে অবৈধভাবে বাজার বসিতেছে। কেবল জুরাইন নহে, রাজধানীর অন্যান্য স্থান যেমন— কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, খিলগাঁও প্রভৃতি অঞ্চলে এইরূপ বাজার বসিয়া থাকে। প্রায়ই শোনা যায়, ট্রেনে কাটা পড়িয়া মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর। জয়দেবপুর হইতে ঢাকার বুক চিরিয়া যেই রেললাইন কমলাপুরে পৌঁছাইয়াছে, তাহারই একটি অংশ কমলাপুর হইতে নারায়ণগঞ্জের দিকে গিয়াছে। এই পুরা রেললাইনের স্থানে স্থানে অবৈধ বাজার, বস্তি ও দোকানপাট। সবজি-মাছ-মুরগি হইতে শুরু করিয়া ফল, প্লাস্টিকের সামগ্রী, হাড়ি-পাতিল, খেলনাসহ নানান সস্তা সামগ্রীর ভাসমান দোকান এইগুলি। কমলাপুর হইতে জুরাইন পর্যন্ত স্থাপিত দোকানগুলিকে অবশ্য ভাসমান বলা যাইবে না, আধা কিলোমিটার জুড়িয়া প্রায় স্থায়ী দোকানপাট রহিয়াছে। খিলগাঁওয়ে লেভেল ক্রসিং ঘেঁষিয়া বসিয়াছে ভাসমান দোকানপাট। গোলাপবাগ, সায়েদাবাদ এলাকায়ও অবৈধ দোকান রহিয়াছে। ট্রেন আসিলে এইসব অস্থায়ী দোকানপাট সরাইয়া লওয়া হয়। ট্রেন চলিয়া গেলে দোকান পুনরায় জমজমাট। এই সকল কিছুর মধ্যেই হঠাত্ দুর্ঘটনা ঘটিয়া যায়।

দোকান ভাড়া না থাকিলেও দৈনিক চাঁদা ঠিকই প্রদান করিতে হয় বিক্রেতাদের। চাঁদার পরিমাণও একেবারে কম নহে। এই চাঁদা কখনো সন্নিহিত স্থায়ী মার্কেটের সমিতি আদায় করিয়া থাকে, কখনো এজেন্টেদের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের নিকট গিয়া পৌঁছায় বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে। ফলে বিষয়টি এইরকম নয় যে, গ্রামের নিঃস্ব মানুষটি জীবিকার আশায় রাজধানীতে আসিয়া একটা কিছু লইয়া নিরুদ্বিগ্ন ব্যবসা শুরু করিয়া দিবে বা দিয়াছে। বিশাল মহানগর তাহার উদারতা দিয়া সকলকেই ঠাঁই দেয়, ব্যাপারটি সেইরকমও নহে। কোনো কিছুই এইখানে আপনাআপনি মিলিবে না। সবকিছুর জন্যই খাজনা দিতে হইবে, কিন্তু সেই অর্থ যথাযথ স্থানে পৌঁছাইতেছে না। আসলে পুরা ব্যাপারটিকে একটি পদ্ধতিগত কাঠামোর মধ্যে আনিতে হইবে। কয়েকটি কারণে ইহা করা প্রয়োজন। প্রথমত, ট্রেনের নিরাপত্তার দিকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটিতে দেখা যায় এই সকল ভাসমান বাজার, দোকানপাট ও বস্তির কারণে। দ্বিতীয়ত, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকার যদি এইসকল ভাসমান দোকানকে একটি নির্দিষ্ট স্থানের মধ্যে সীমিত রাখিতে পারে তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ সেই বাজার হইতে যথাযথ করও আদায় করিতে পারিবে। তৃতীয়ত, রাজধানীর সম্মান ও সৌন্দর্যের বিচারে এইসকল ভাসমান দোকান অনাকাঙ্ক্ষিত। একটি মহানগরের শৃঙ্খলা হানিতে এইসকল দোকানপাট যথেষ্ট অবদান রাখিয়া থাকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এইসকল সম্মান-শৃঙ্খলা-সৌন্দর্যের দিকেও মনোযোগ দিতে হইবে। যেহেতু এইসকল দোকানপাটের সহিত গরিব মানুষেরা যুক্ত, তাই কেবল উচ্ছেদই একমাত্র সমাধান হইতে পারে না। তাহাদের বিক্রিবাট্টার বিকল্প ব্যবস্থা বা পরিসর সৃষ্টি করিতে হইবে। আবার উচ্ছেদ করিয়া বসিয়া থাকিলে চলিবে না, ইহার নজরদারি অব্যাহত রাখিতে হইবে। স্থায়ী সুরক্ষার আওতায় আনিতে হইবে ব্যস্ত রেলপথগুলিকে। কারণ অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, এইসকল দোকানপাট উচ্ছেদ করিবার অল্প কয়েকদিন পরই পুনরায় বাজার বসিয়া গিয়াছে। সমন্বিতভাবে পুরা বিষয়টির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করিতে হইবে।