একটি কক্ষেই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান!

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২২, ০৫:১৪

কাপ্তাই উপজেলা সদর পার হয়ে ১৫ কিলোমিটার সড়ক পথে বাণিজ্যিক এলাকা জেটিঘাট। কাপ্তাই লেকসংলগ্ন এই জেটিঘাট এলাকা থেকে ইঞ্জিনচালিত বোটে ঘণ্টা দেড়েক পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় ভাইজ্জাগোড়া। সেখান থেকে ৩ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ভাঙ্গামুড়া গ্রামে পৌঁছাতে হয়। কাপ্তাই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ভাঙ্গামুড়া গ্রাম। আড়াছড়ি মৈন পাড়া আর তাইতং ছড়া পাড়া মিলে প্রায় ১৩০ পরিবারের বসবাস।

মূলত তনচংগ্যা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজন এই পাড়ার বাসিন্দা। কিন্তু এই তিন পাড়ার ৪ শতাধিক জনগোষ্ঠীর জন্য নাই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। গ্রামের কিছু শিক্ষিত যুবক এবং গ্রামের বিদ্যোত্সাহী ব্যক্তিগণের সহযোগিতায় ২০০৭ সালে এই ভাঙ্গামুড়া পাড়ায় স্হাপন করা হয় ভাঙ্গামুড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একমাত্র বেড়ার তৈরি ঘরে প্রথম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস সারতে হয়। স্কুলে নেই কোনো বেঞ্চ। ফলে মেঝেতে বসে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়। আবার মেঝের অবস্থাও জরাজীর্ণ। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন আনন্দজয় তনচংগ্যা।

তিনি জানান, বর্তমানে স্কুলে সর্বমোট শিক্ষার্থী ৫০ জন। ক্লাসরুম মাত্র একটি। পালা করে আমরা প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস করি। স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক যত্সামান্য বেতন দিয়ে আমরা তিন জন শিক্ষক বেতন নিই। আবার অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবার অতি দরিদ্র। ফলে সবার কাছ থেকে বেতন নেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি আরো জানান, বছরের প্রথমদিকে শুধু উপজেলা শিক্ষা বিভাগ থেকে আমাদের পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হয়।

স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জীবক তনচংগ্যা, বিশন্ত তনচংগ্যা ও কান্তি বিকাশ তনচংগ্যা জানান, আমরা এলাকাবাসী চাঁদা তুলে ২০০৭ সালে এই এলাকার শিশুদের কথা চিন্তা করে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্হাপন করি।

৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নবীন কুমার তনচংগ্যা জানান, ২০১১ সালে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইছাইন চৌধুরীর উদ্যোগে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের অর্থায়নে এই বিদ্যালয়ের জন্য একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ জানান, এই ওয়ার্ডের অন্তর্গত হরিণছড়া এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। কিন্তু সেটা ঐ পাড়াগুলো থেকে বেশ দূরে। তাই এই তিন পাড়া মিলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হলে এলাকাবাসী শিক্ষার সুযোগ পাবে।

কাপ্তাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিচ জানান, বেসরকারি স্কুল জাতীয়করণে আমাদের কোনো হাত নেই। আমরা প্রতিবছর এই বিদ্যালয়ে নতুন বই দিয়ে থাকি। তবে বিদ্যালয়টির উন্নয়নের জন্য যদি কোনো বরাদ্দ আসে তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ