লাইলাতুল বারাআতের প্রার্থনা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২২, ০৬:০০

আজ পবিত্র শাবান মাসের ১৪ তারিখ। আজ দিবাগত রাত্রে মুসলিম জাহানে পালিত হইতেছে পবিত্র লাইলাতুল বারাআত। এই রাত্র তাত্পর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত। মহান আল্লাহর নিকট প্রতিটি দিন-রাত্রই গুরুত্বপূর্ণ। বান্দার আমলের দিক হইতেও তাহা গুরুত্ববহ। তাহার পরও আল্লাহ তায়ালা বিশেষ নিয়ামত হিসাবে কিছু দিবস-রজনি আমাদের জন্য প্রদান করিয়াছেন, যাহাতে আমরা উপকৃত হইতে পারি এবং অর্জন করিতে পারি তাহার সান্নিধ্য।

বিশেষ করিয়া, লাইলাতুল বারাআত বা শবেবরাতে আল্লাহ তাআলা তাহার রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করিয়া দেন। পাপী-তাপীদের উদারচিত্তে ক্ষমা করেন, জাহান্নাম হইতে মুক্তি দিবার প্রতিশ্রুতি দেন। এই জন্য এই রাত্রকে বলা হয় লাইলাতুল বারাআত বা মুক্তির রাত্র বা সৌভাগ্যের রাত্র। হাদিস শরিফে ইহার নামকরণ করা হইয়াছে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান’ তথা শাবান মাসের মধ্যরজনি। পবিত্র কোরআন শরিফে ইহাকে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ বা বরকতময় রজনি বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে মর্মে তাফসিরকারকেরা উল্লেখ করিয়াছেন।

সুনানে তিরমিজি শরিফের হাদিসে বলা হইয়াছে যে, মহান আল্লাহ এই রাত্রে দুনিয়ার প্রথম আকাশে অবতীর্ণ হইয়া দুনিয়াবাসীর উপর তাহার খাস রহমত নাজিল করিয়া থাকেন। কালব গোত্রের মেষের গায়ে যত পশম আছে, তাহার চাইতেও অধিকসংখ্যক বান্দাহকে তিনি ক্ষমা করিয়া দেন। আরব দেশে সেই সময় কালব গোত্রের মেষের পাল ছিল সবচাইতে বড়। ইহাতে বোঝা যায়, এই রাত্রে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাহিলে তিনি অসংখ্য মানুষকে মাফ করিয়া দেন। ইসলামের দৃষ্টিতে পাঁচটি রাত্রির দোয়ার গুরুত্ব সর্বাধিক।

রাত্রগুলি হইল—রজব মাসের প্রথম রাত্রের দোয়া, লাইলাতুল বারাআতের দোয়া, লাইলাতুল কদরের দোয়া, ঈদুল ফিতরের রাত্রের দোয়া ও ঈদুল আজহার রাত্রের দোয়া। অতএব, এই রাত্রের ইবাদত-বন্দিগির ব্যাপারে আমাদের যত্নবান হইতে হইবে। নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, তওবা-ইস্তিগফার ইত্যাদির মাধ্যমে এই রাত্রি জাগরণ করিতে হইবে। সম্ভব হইলে আপনজন ও আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করিতে হইবে। দান-সাদকাহ করিতে হইবে সাধ্যমতো। আতশবাজি, হই-হুল্লোড়, অহেতুক ঘোরাঘুরি ইত্যাদি করা যাইবে না এবং এমন কাজ করা যাইবে না, যাহাতে মুমিন মুসলমানের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

এই রাত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে এই কথাও বলা হইয়া থাকে যে, পরবর্তী বত্সরের হায়াত, মউত, রিজিক, দৌলত, আমল ইত্যাদির আদেশ-নির্দেশ এই রাত্রেই চূড়ান্তরূপে ফয়সালা করা হয়। এই জন্য এই রাত্রে আমরা আজ আমাদের দুঃখদুর্দশা, অপ্রাপ্তি, ব্যথা-বেদনা ইত্যাদি হইতে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় মহান রব্বুল আলামিনের নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করিব। পাপ-পঙ্কিলতা পরিহার করিয়া শুভচিন্তা ও সত্কর্মের আদর্শ গ্রহণের মাধ্যমে নূতন জীবন লাভের অঙ্গীকার করিব।

বিশেষ করিয়া, বর্তমানে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্ব হইতে করোনা মহামারি এখনো বিদায় নেয় নাই। আমরা যাহাতে এই মহামারি হইতে দ্রুত রক্ষা পাইতে পারি এবং ইহার যাবতীয় ক্ষতি কাটাইয়া উঠিতে পারি, এই জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট মুনাজাত করিব। প্রার্থনা করিব, যাহাতে তিনি যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ করিয়া পৃথিবীতে শীঘ্রই শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়ন করেন।

শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নহে, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনেও সকল কিছু সুন্দর ও শুভ হউক, লাইলাতুল বারাআতে আমরা আজ ইহাই প্রার্থনা করি। এই রাত্র মাহে রমজানের আগমনী বার্তা বহিয়া আনিয়াছে। সুতরাং শবেবরাতের মধ্য দিয়াই শুরু হউক আমাদের রমজানের সিয়াম সাধনার প্রস্ত্ততি। এই রাত্রের ইবাদতের মাধ্যমে আমাদের সকল সংকট কাটিয়া গিয়া উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার অবসান ঘটুক ও বিশ্বমানবতা মুক্তি পাক—ইহাই আমাদের একান্ত কামনা।

ইত্তেফাক/বিএএফ