খুলনার মাঠে আবাদ হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু ধান’

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২২, ১০:২৫

জিংক সমৃদ্ধ নতুন জাতের ধান ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ বা ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’। পাঁচ বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এ জাতের ধান আবিষ্কার করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’ নামকরণ করা হয়। এই জাতের ধান উৎপাদনে সময় অনেক কম লাগবে, ফলনও বৃদ্ধি পাবে। রোগ-বালাই ও পোকা-মাকড় আক্রমণের শঙ্কাও কম। খুলনার উপকূলীয় দাকোপ ছাড়া বাকি আট উপজেলায় প্রথম বারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে বঙ্গবন্ধু জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে রূপসা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ১২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে এ জাতের ধান। 

এছাড়া রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের জাবুসা গ্রামের ১৫ কৃষক সম্মিলিতভাবে জমিতে সবুজ ও বেগুনি রঙের সংমিশ্রণে তৈরি করেছে বাংলাদেশের মানচিত্র। মানচিত্রের ভেতরে রয়েছে সবুজ রঙের ‘বঙ্গবন্ধু ব্রি-১০০’ জাতের ধানের চারা। এছাড়া পাশে ব্যবহার করা হয়েছে বেগুনি রঙের ধানের চারা। বেড়ে ওঠা দুই রঙের ধানের চারায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের প্রতিকৃতি। যার ভেতরে লেখা আছে, ‘মুজিব শতবর্ষ বঙ্গবন্ধু ধান ১০০’, যা সাড়া ফেলেছে ঐ এলাকায়।

জাবুসা গ্রামের চাষি সুলতানুর রহমান মুলতান জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি জমি প্রস্তুত করে নতুন জাতের বীজ বপন করেছেন। কম সময়ে ভালো চারা পাওয়ার পর তা জমিতে রোপণ করেছেন। ধানের চারা বেশ বেড়ে উঠেছে। কয়েক জন চাষি বলেন, সবুজ ধানের মধ্যে আলাদা বেগুনি ধান রোপণ করে বাংলাদেশের বিশাল মানচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রূপসা উপজেলা 

কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, নতুন জাতের ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’-এর প্রতি চাষিদের আকৃষ্ট করতে দুই রঙের চারা রোপণ করে মানচিত্রের মতো প্রদর্শনী ব্লক তৈরি করা হয়েছে। মানচিত্র ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে বেগুনি রঙের ধানের চারা। বেগুনি রঙের ধানের চারা আনা হয়েছে গাইবান্ধা থেকে। তিনি আরো বলেন, জেলা অফিস থেকে পাঁচ কেজি বীজ পেয়েছিলাম। পরে নিজেদের উদ্যোগে আরো ৬০ কেজি বীজ সংগ্রহ করে চাষিদের মধ্যে বিনা মূল্যে সরবরাহ করি। কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, একজন চাষিকে পাঁচ কেজি বীজ বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উচ্চ জিংক ও পুষ্টিসমৃদ্ধ এ জাতের ধান সোনালি রঙের নাজিরশাইল বা জিরা ধানের দানার মতো। হাইব্রিড ধানের উত্পাদন খরচ বেশি হলেও ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’ উফশী জাতের হওয়ায় ধানের উত্পাদন খরচ কম। এটি বোরো মৌসুমের জাত। ব্রি ২৮ ও ২৯ ধান উৎপাদনে ১৫৫-১৬০ দিন সময় লাগে। সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’ কৃষক ঘরে নিতে পারবে ১৪৫-১৪৮ দিনের মধ্যে। বীজতলায় ৩৫ দিন বয়স থেকে এ জাতের চারা রোপণ করা যায়। ১৪৮ দিনের মধ্যে ফসল কাটার মতো উপযুক্ত হয়ে ওঠে। বিআর-৭৪ ও বিআর-৮৪-এর চেয়ে এর ফলন বেশি। উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে প্রতি হেক্টরে ৮.৮ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। পূর্ণ বয়স্ক ধান গাছের উচ্চতা ১০১ সেন্টিমিটার। চালের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো এবং ভাত ঝরঝরে। কৃষি অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যে ধানগুলো রিলিজ করে, সেটা বিভিন্ন সংখ্যা দিয়ে নামকরণ করে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার নামে ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’ উত্সর্গ করা হয়।

ইত্তেফাক/ ইআ