বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কোটি মানুষ কম দামে টিসিবির পণ্য পাবে আজ থেকে

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২২, ০৮:০০

দেশের দরিদ্র কোটি মানুষ কম দামে আজ রবিবার (২০ মার্চ) থেকে টিসিবির নিত্যপণ্য পাবে। রংপুরের কাউনিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির আঁচ থেকে স্বল্প আয়ের মানুষকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাইরে সারা দেশের ৮৭ লাখ ১০ হাজার ‘ফ্যামিলি কার্ডধারী’ এ পণ্য পাবেন। এছাড়া ঢাকা সিটির ১২ লাখ এবং বরিশাল সিটির ৯০ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে আগের মতো কম দামে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলবে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, এটি সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ৫ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন। এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

সূত্র জানিয়েছে, করোনাকালীন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে নগদ সহায়তা প্রদানের যে ডেটাবেজ প্রণয়ন করা হয়েছিল, তার মধ্যে ৩০ লাখ পরিবারের পাশাপাশি সারা দেশে স্হানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ৫৭ লাখ ১০ হাজার উপকারভোগীসহ মোট ৮৭ লাখ ১০ হাজার পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগী নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনসংখ্যা, দারিদ্র্য সূচক বিবেচনা করা হয়েছে।

টিসিবি জানিয়েছে, সারা দেশে কার্ডধারীদের মধ্যে পণ্য বিক্রির প্রস্ত্ততি চূড়ান্ত। ইতিমধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সব ধরনের পণ্য পাঠানো হয়েছে। সরকারের এ বিপণন সংস্হাটি জানিয়েছে, আজ প্রথম পর্বে উদ্বোধনের পর পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এ সময়ে কার্ডধারীরা দুই লিটার ভোজ্য তেল, দুই কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও পাঁচ কেজি পেঁয়াজ পাবেন। সব পণ্য একটি প্যাকেটে ভরে দেওয়া হবে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৫৫, মসুর ডাল ৬৫ ও পেঁয়াজ ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে রমজানের শুরুতে ৩ এপ্রিল থেকে আরেক বার এসব পণ্য দেওয়া হবে। এবার এসব পণ্যের সঙ্গে দুই কেজি ছোলা দেওয়া হবে। ছোলার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা। এই কর্মসূচির জন্য ২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল, ৪০ হাজার টন চিনি, ৪০ হাজার টন মসুর ডাল, ৪০ হাজার টন ছোলা এবং ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দরিদ্রদের মধ্যে কম দামে পণ্য বিক্রির এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক/সমপর্যায়ের কর্মকর্তাকে অথরাইজড অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে এবং কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়ন করা হয়েছে। কার্যক্রম তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ স্হানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন করেছে। সার্বিকভাবে এ কার্যক্রম তদারকি করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সূত্র জানিয়েছে, সরকার এ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বরদাশত করবে না। কেউ অনিয়ম, দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসজেড