স্বামীর লাশ নিয়ে ফিরতেই স্ত্রীকে পুলিশে দিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন!

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ১২:০৩

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক পোশাক কর্মী তার স্বামীর লাশ নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফিরতেই বিপাকে পড়েছেন হাজেরা নামের এক গৃহবধূ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ তোলায় পুলিশ তাকে আটক করেছে। 

তবে ঐ নারীর দাবি, তার স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আত্মীয়দের সহায়তায় গাজীপুর তায়রুন্নেছা মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসলাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললেও তিনি সেখানে নিতে পারেননি। স্বামীর মৃত্যু হলে রবিবার সকালে লাশ নিয়ে বাড়িতে আসেন তিনি। 

অন্যদিকে নিহতের মায়ের দাবি, রাত ১১টার দিকেই তিনি তার ছেলের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। আর সকাল বেলায় ছেলের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরেছে পুত্রবধূ। এতে তার সন্দেহ হয়। পরে এলাকাবাসী লাশবাহি অ্যাম্বুলেন্সসহ ছয় জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। পুলিশ আটককৃতদের থানাহাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জানা যায়, উপজেলা রাজিবপুর ইউনিয়নের উজানচর নওপাড়া গ্রামের মহিশাল বাড়ির মৃত মজিবুর রহমানের পুত্র দেলোয়ারের (২২) সঙ্গে বিয়ে হয় একই এলাকার ঘাঘড়া গোপালপুর গ্রামের হাজেরা বেগমের। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই গাজীপুরের কোনাবাড়ী কলেজ রোড ময়লা পুকুর এলাকায় বসবাস করতেন। হাজেরা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। দেলোয়ার একই এলাকায় ভাঙারি ব্যবসা করতেন।

গতকাল ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে স্বামীর লাশ নিয়ে হাজেরা শ্বশুরবাড়িতে ফিরলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন অভিযোগ তোলেন—দেলোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। আটককৃতরা হলেন হাজেরা, নয়ন, হাসিম উদ্দিন, রমিজা, জাহানারা ও কাজল। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল কাদের মিয়া জানান, লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা থানা হাজতে রয়েছে। 

ইত্তেফাক/ইআ