মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা

উপকূলীয় জেলে পরিবারে নেই ঈদ উত্সাহের আভাস!

আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ২১:৩৪

এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপকূলীয় এলাকায় নেই আনন্দ উত্সাহের কোনো আভাস। জেলে পরিবারের ছেলেমেয়েদের মাঝে নেই নতুন জামা কাপড় কেনার হিড়িক। রেজু ব্রিজ থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ২৮ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবারে নেমে এসেছে দুর্দিন। ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ছেলেমেয়েদের নিয়ে অভাবে দিন কাটালেও তারা মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন। তবে এ সময় তাদের যেন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় সরকারের প্রতি তারা দাবি জানিয়েছে। মত্স্য কর্মকর্তা বললেন, জেলেদের খাদ্য প্রদানের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ইনানী মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ছৈয়দ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতজুড়ে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকা মত্স্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত। এখানে প্রায় ১০ হাজার জেলে বিভিন্ন উপায়ে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তবে উপকূলের ঝাউবাগান দখল করে বসবাসরত রোহিঙ্গারা পোনা আহরণের নামে কারেন্ট জাল দিয়ে নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন করছে। যা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

ইনানী এলাকার ইনশাআল্লাহ ফিশিং  বোটের মাঝি হেদায়েত উল্যাহ (৫৫) জানান, তিনি ৩০ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি বলেন, মাছ ধরে আয়ের টাকা দিয়ে কিছু করতে পারিনি। তাই সরকার সাগরে মাছ ধরতে নিষেধ করলে তাদের কষ্ট হয় বলে আকুতি জানিয়ে বলেন, এ সময় সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান করলে বা ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে তাদের ঋণ প্রদান করা হলে ছেলেমেয়েদের অন্তত খাওয়াতে পড়াতে পারতাম।

ইনানী মত্সজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি ইসমাইল হোসেন জানান, উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত সবকটি পরিবার মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত। এসব পরিবারের কারো না কারো একটি  করে হলেও ছোট নৌকা রয়েছে। যা দিয়ে ৪/৫টি পরিবার অনায়াসে চলতে পারে। এ সমস্ত পরিবারগুলো আসন্ন ঈদুল ফিতরে কীভাবে দিন কাটাবে তা ভাববার বিষয়। এখানে মাছ আহরণের সঙ্গে জড়িত এমন কোনো সহূদয় ব্যক্তি নেই যিনি গরিব জেলেদের দান খয়রাতের মাধ্যমে গরিব জেলে পরিবারে সাময়িক খুশির আনন্দ এনে দিতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা শেখ মো. এরশাদ বিন শহীদ জানান, সাগরে মাছের বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে কেউ যদি মাছ ধরার চেষ্টা করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ২০ মে থেকে ২৩ শে জুলাই ৬৫ দিন অলস অবস্থায় বিদ্যমান ও মত্স্য অধিদপ্তরে নিবন্ধিত ৩ হাজার ৯৯ জন জেলেকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য মত্স্য সম্পদ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হচ্ছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।