লাভবান চালকল মালিকরা!
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেলায় চালের খোলাবাজার মূল্যের চেয়ে সংগ্রহমূল্য কেজিতে ১০/১১ টাকা বেশি থাকায় এবার বোরো সংগ্রহ অভিযানে চালকল মালিকরা লাভবান হচ্ছে বলে জানা গেছে। কেজিপ্রতি ১০/১১ টাকা লাভ করছে। অর্থাত্ টনপ্রতি ১০ হাজার টাকা। তারা সরকারি গুদামে চাল বিক্রি করে বাম্পার লাভ করছে। অপরদিকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান চাষ করে লোকসান হচ্ছে চাষিদের।
জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার চালের সংগ্রহমূল্য ধার্য করা হয়েছে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা। গত শুক্রবার ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোটা চাল স্বর্ণা ও গুটি স্বর্ণা পাইকারি প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে ২৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাত্ প্রতি টনের দাম ২৫ হাজার টাকা থেকে ২৬ হাজার টাকা। মিল-মালিকরা মোটা চাল সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে বিক্রি করছে। কেউ বেশি দামের চিকন চাল মিনিকেট, বি আর-২৮ বা কাজললতা বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছে না। টনপ্রতি এক হাজার টাকা খরচ ধরলেও লাভ থাকছে ৯ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা। অতীতে কোনো সময় সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে চাল বিক্রি করে মিল-মালিকদের এমন অস্বাভাবিক লাভ হয়নি। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাল ব্যবসায়ী বলেন, টনপ্রতি এক হাজার টাকা লাভ হলেই তারা খুশি থাকতো।
জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো সংগ্রহ অভিযানকালে এ জেলায় ২৫ হাজার ৯২৭ টন চাল ও ২৫৪০ টন ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার ২০০শ টন চাল ও ৩০৪ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলার ৪৩০ জন মিল-মালিকের কাছ থেকে এ চাল সংগ্রহ করা হবে। এজন্য খাদ্য বিভাগ তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। অভিযোগ রয়েছে বন্ধ রয়েছে এমন চালকলের নামেও সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে বিক্রির জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার ঝিনাইদহ জেলায় ৮৮ হাজার ৫০৪ হেক্টরে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ফলনও বাম্পার হয়েছে। মোট বোরো ধান উত্পাদন হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩৪৫ টন। হিসাবে দেখা যায়, উত্পাদিত ধানের সামান্য অংশ সরকার কিনবে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রচুর ধান উঠছে। মোটা ধান প্রতি মণ (৪০ কেজি) ৬২০ টাকা থেকে ৬৪০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। আর চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ৭১০ টাকা থেকে ৭৩০ টাকার মধ্যে। এ দামে ধান বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে বলে চাষিরা জানান।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নকিব সাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এবার সরকারি চাল ক্রয় কেন্দ্রে কোনো দুর্নীতি হচ্ছে না। হাট থেকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে।
কাহারোল (দিনাজপুর) : কাহারোল উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও ধানের দাম কম হওয়ায় মুখে হাসি নেই কৃষকের। ধান কেটে ঘরে উঠলেও মজুরি পরিশোধ করে ধান বিক্রি করেও লোকসান গুনতে হচ্ছে কাহারোলের কৃষকদের। ধারদেনা করে বোরো ধান চাষের পর ধানের মূল্যে কমে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাথা থেকে ধারের বোঝা নামাতে পারছে না কৃষক। ধান চাষের শুরুতে বিভিন্ন দোকান থেকে কৃষি উপকরণ সারসহ কৃষি উপকরণ দোকান থেকে বাকিতে ক্রয় করে ধান চাষ করেছে। ধান বিক্রি করে তা পরিশোধ করার কথা। ধানের দাম না থাকায় ধান ঘরে তোলার পরেও দোকানে বাকি পরিশোধ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে শত শত কৃষক। আর সামনে অসন্ন ঈদুল ফিতর। এ নিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের দু’চোখে শরষে ফুল দেখছে। এদিকে কাহারোল খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে ১৬১ মে. টন ধান ক্রয় শুরু হলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়ে নি।
