ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আকাশনীলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মশিউর রহমান ওরফে সাদ্দামকে (২৮) গ্রেফতার করেছে র্যাব। রবিবার রাতে রাজধানীর পান্থপথ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য নিয়ে র্যাব ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও মশিউরের বন্ধু ইফতেখারুজ্জামান রনিকে (৩২) গ্রেফতার করে।
গতকাল সোমবার দুপুরে কাওরানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে ৯ হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অন্তত ৩২ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পণ্য ও টাকা ফেরত না দিয়ে মশিউর নিজে কিনেছেন দামি ফ্ল্যাট ও গাড়ি। সুযোগ খুঁজছিলেন দুবাই পালিয়ে যাওয়ার। এজন্য তিনি দুবাইয়ের ভিসাও নিয়েছিলেন। তার আগেই র্যাব তাকে গ্রেফতার করে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ অধ্যয়নকালেই দুই বন্ধু মশিউর ও রনি মিলে গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসায় নামেন। গার্মেন্টসের রিজেক্টেড পণ্য বিক্রি করতেন রাজধানীর নিউমার্কেটে। এরপর ২০১৯ সালে আকাশনীল নামে ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ তৈরি করেন। ট্রেড লাইসেন্সও নেন। রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকায় অফিস খোলেন। প্রথমে শাক-সবজি কিনে অনলাইনে হোম ডেলিভারির ব্যবসা শুরু করেন। করোনায় সুবিধা করতে না পেরে ক্ষতির সম্মুখীন হন। এরপরই মশিউর রহমান ওরফে সাদ্দাম শুরু করেন প্রতারণামূলক ব্যবসা। আকাশনীল কোম্পানিকে লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত করেন। পুরো পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মতো ডিসকাউন্ট অফারে মোটরসাইকেল বিক্রির রমরমা ব্যবসা শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানিয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংকে মশিউরের ৪টি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। ৩২ কোটি টাকার দায় মেটানোর কোনো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি গ্রেফতারকৃতরা। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই লোকসানি কোম্পানি। কোনো ব্যবসায়িক লাভ ছিল না, উল্টো ছিল খরচ, যা গ্রাহকের টাকায় মেটানো হতো। ফলে দেনা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। সেই দেনা না মিটিয়েই ব্যবসায়িক অপকৌশল হিসাবে নতুন গ্রাহকের উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে, পুরোনো গ্রাহক ও সরবরাহকারীর দায়ের আংশিক পরিশোধ করা হয়।
