শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মাদক কারবারিদের আধিপত্য নিয়ে বাড়ছে খুনের ঘটনা

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২২, ১১:৪৫

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় মাদক কারবারিদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ঘটছে দুই পক্ষের মারামারি, সংঘাত ও আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা। খুনসহ এসব ঘটনা ঘটছে প্রকাশ্যে। খুনের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন দু-এক জন আসামিকে আটক করলেও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব নৃশংস ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে মনে করেন স্থানীয় মানুষ। গত তিন মাসে মাদকসংশ্লিষ্ট ঘটনায় তিন জন খুন হয়েছেন। কয়েকটি মারামারিতে আহত হয়েছেন আরো কয়েক জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী চারঘাট উপজেলায় মাদকের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। পদ্মা নদীর প্রবাহ দ্বারা উভয় দেশ বিভক্ত হওয়ায় সহজেই পাওয়া যায় মাদকদ্রব্য। চুরি-ছিনতাই, মারামারি-সংঘাতসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনের উৎস মাদক। অভিযোগ রয়েছে, চারঘাট থানা থেকে অপেক্ষাকৃত দূরের ইউনিয়ন শলুয়া ও ইউসুফপুরে মাদক কারবারিরা একপ্রকার নিরাপদে তাদের কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেন। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও মাদকের টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে প্রায়ই প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। কিন্তু এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ রোষানলে পড়ার ভয়ে থানায় অভিযোগ না করায় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। দ্বন্দ্ব যখন সহিংসতায় রূপ নিয়ে খুনের মতো ঘটনা ঘটে, তখনই প্রশাসন সক্রিয় হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চারঘাটের শলুয়া ইউনিয়নের তাঁতারপুর গ্রামে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় খুন হন শাহবাজ আলী নামের এক কৃষক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেল থেকে জামিন পেয়েই একটি বাহিনীর সদস্য মঙ্গলবার সকাল থেকে সাহাবুরসহ তার লোকজনকে হুমকি দেয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁতারপুর আক্কাসের মোড়ে জনসমক্ষে সাহাবুরের ভাই কাজলের ওপর হামলা করে হেলমেট পরিহিত প্রায় ২০ জন। তখন সেই মোড়ে চায়ের দোকানে বসে থাকা শাহাবাজ আলী ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে প্রকাশ্যে ধারালো হাঁসুয়া ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি। এদিকে, গত ২০ ডিসেম্বর উপজেলার ঝিকরা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে মাইনুল ইসলাম সিলনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঐ ঘটনায় পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে উপজেলার তাঁতারপুরে গত ৩১ জানুয়ারি মাদকাসক্ত ছেলে মুরাদ আলী পিটিয়ে হত্যা করেন তার বাবা সাদেক আলীকে। মাদক সেবনের প্রতিবাদে এবং সংসারের খরচ চাওয়ায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মুরাদ আলীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। অন্যদিকে শিলন আলী হত্যাকাণ্ডের প্রধান সাব্বির হোসেন। সাব্বিরকে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়।

জানতে চাইলে চারঘাট উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, ‘মাদক কারবারি এসব বাহিনীর কাছে আমরা অসহায়। তাদের দৌরাত্মে্য সাধারণ মানুষের শান্তিতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যেই সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে তারা। এতে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের মতো বড় ঘটনা না ঘটলে স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না।’

এ ব্যাপারে চারঘাট মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। সবগুলো ঘটনা শুধু মাদকসংশ্লিষ্ট এমনটা নয়। সব খুনের ঘটনাতেই আসামি আটক করা হয়েছে। শাহবাজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ফতুল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত

শার্শায় ইউপি সদস্য খুন

রাজশাহীতে স্ত্রীকে ভাগিয়ে বিয়ে করায় ছুরিকাঘাতে দলিল লেখক নিহত

সাভারে বখাটেদের হাতে ফটোগ্রাফার খুন, গ্রেফতার ১

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

যশোরে  খুনের মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

মুরাদনগরে ৪ কেজি গাঁজাসহ ২ নারী আটক

স্ত্রীকে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ

মান্দায় ৫০০ টাকার জন্য খুন হন রিপন