বগুড়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যা

পাওনা টাকা চাওয়ায় কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেন দুই বন্ধু

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৩৪

বগুড়ায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে (৩৭) কফির সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে ধানখেতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি নাজিম উদ্দিন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে নাজিম হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার বিবরণ দেন। জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে তিনি ও তার সহযোগী মো. স্বপন মিলে বন্ধু ওয়াহেদকে হত্যার ছক তৈরি করেছিলেন। ঘটনায় জড়িত স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চির কাজ করার সূত্রে ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদের সঙ্গে নাজিম ও স্বপনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে একটি এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেখান থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। সম্প্রতি সেই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয় এবং এর জেরেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।

স্বীকারোক্তির বরাতে তদন্তকারী পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট বিকেলে ওয়াহেদকে মালগ্রাম এলাকায় ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে আনেন নাজিম ও স্বপন। সেখানে সন্ধ্যার দিকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তাকে পান করানো হয়। বিষক্রিয়ায় ওয়াহেদের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রাতে তার মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে কার্যালয়ের অদূরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে দেন তারা। মরদেহ গুম করার পর ওই রাতেই হত্যাকাণ্ডের কার্যালয়ে অবস্থান করেন এবং পরদিন ৮ আগস্ট সকালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজ নিজ এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান।

নিহত ওয়াহেদ হোসেন শহরের সূত্রাপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে যৌথভাবে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। গত ৭ আগস্ট তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট মালগ্রামের ধানখেত থেকে তার অর্ধগলিত বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত হতে না পেরে প্রথমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হলেও পরবর্তীতে পোশাক ও অন্যান্য আলামত দেখে স্বজনেরা মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় গত ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে।

ইত্তেফাক/এনএন