২০১৫ আইসিসি বিশ্বকাপ, ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং সবশেষে গত বছর অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ। ক্রিকেটের গত তিনটি বড় আসরেই চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ট্রফি জয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। সঙ্গত কারণেই এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নিয়ে প্রত্যাশার কমতি নেই।
তবে ক্রিকেট হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তার খেলা। আর এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর শক্তি কারো চেয়ে কারো কম নয়। তাই বাংলাদেশ নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী না হতেই পরামর্শ দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আজ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হচ্ছে।
গতকাল ওভালে ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, খুব বেশি প্রত্যাশা টিমের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আর যে কোনো মানদণ্ডে আপনি দেখেন না কেন বাংলাদেশতো এই টুর্নামেন্টে ফেবারিট না। এমনকি কাল (আজ) আমরা যে ম্যাচটি খেলব সেটাতেও ফেবারিট সাইড হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অনেকে চিন্তা করছে আমরা এবারের বিশ্বকাপ জিতে গেছি। অনেকে মনে করছে আমরা সেমিফাইনালে উঠে গেছি। আমার কাছে এইসব চিন্তা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়। কোনো মানদণ্ডেই আমরা এই বিশ্বকাপের ফেবারিট না। উইকেট বলেন আর যাই বলেন।
তারপরও জয়ের জন্যই আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মাশরাফি বলেছেন, তবে এটাও সত্য যে আমরা এখানে আমাদের সেরাটাই খেলবো। আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই অবশ্যই জিততে চাইব। কোনো জায়গা থেকেই আমি ভাবছি না যে আমরা ম্যাচটা হেরে যাব। কিন্তু আপনি যদি বলেন এবার আমরা কিছু করে ফেলব আসলে আমরাতো ওই জায়গায় নাই। যারা ক্রিকেট বিশ্লেষণ করছে তারা আমাদেরকে পিছিয়ে রাখছে। এটা আমার কাছে সে ফ আরেকটা টুর্নামেন্ট। আমরা এখানে আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাই। ছেলেরা যত স্বাভাবিক থাকবে ততই আমরা আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে পারব। সমস্ত আশা আর সমস্ত কথা শুনে যদি আমরা মাঠে ঢুকি আমাদের জন্য এটা আরো অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করবে। আশাবাদী হলে অনেক সময় ভালোটা বের হয়ে আসে। তবে আমার কথা হচ্ছে— আশা যেন চাপ সৃষ্টি না করে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপে ভালো শুরুর প্রত্যাশা করছেন মাশরাফিও। তিনি বলেছেন, শুরুটা ভালো হলেতো অবশ্যই টিমের জন্য ভালো। এটা স্বাভাবিক নিয়ম। এতে টিমের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এছাড়া আমরা যে উইকেটে খেলব সেটা একটা ব্যবহূত উইকেট। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ ওই উইকেটে হয়েছে। ওভালে প্রথম ম্যাচে ৩০০-ও বেশি রান হয়েছে। যেহেতু ব্যবহূত উইকেট তাই এখানে স্পিনাররা ভূমিকা রাখতে পারবেন কিনা সেটা একটা ব্যাপার। আমরা আশা করছি ফ্ল্যাট উইকেট হবে। উইকেট যেটাই হোক আমাদেরকে সেটা মানিয়ে নিতে হবে। সেরা খেলাটা খেলতে হবে।
ইনজুরির ধাক্কা নিয়ে অধিনায়ক জানালেন, যারা চোট পেয়েছেন তাদের ফিটনেস টেস্ট হবে। তবে ফিজিওর কলের ওপরই নির্ভর করবে। আমাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় চোট পেয়েছেন। আশা করি তারা সুস্থ হয়ে যাবে। আশা করি পুরো টুর্নামেন্টই যাতে তারা সুস্থ থাকে এবং খেলতে পারে। তবে ছোটখাট কিছু ইনজুরি থাকবেই। এটা নিয়েই খেলতে হবে।
