নিরলসভাবে গান লিখছি, লিখে যাবো: কবির বকুল

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২২, ১৫:৩৮

কবির বকুল। এদেশে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ডাবল হ্যাট্টিকের ঘটনা বিরল। সারাজীবন গীতিকবিতায় যিনি অগণিত জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। একাধিক চলচ্চিত্রের একক গীতিকার হিসেবে সব ক’টি গান লিখেছেন এমন উদাহরণ অগণিত। দুই প্রজন্মের চলচ্চিত্রের সংগীতে নিজেকে অপরিহার্য রাখাটাও এক বিরাট ঘটনা। কথা বললেন সেই অনুভব ও আগামী পরিকল্পনা নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল।

অভিনন্দন। ৬ষ্ঠবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন। যা দেশের গীতিকারদের ভেতর সর্বোচ্চ। এমন অর্জনের অনুভূতি কীভাবে ব্যক্ত করবেন?

ভালো কাজের জন্য ৬ বার স্বীকৃতি পেলাম। সেই হিসেবে এটা অবশ্যই আমার জন্য অনেক বড় অর্জন এবং গর্ব ও আনন্দের বিষয়। আমরা যারা ক্যামেরার পেছনে কাজ করি তাদের কাজের মূল্যায়ন যখন হয় তখন প্রত্যেকেই সেটাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করি। আমি তো কখনও পুরস্কার পাবো এই চিন্তা করে কাজ করি না। সেই জায়গায় এক এক করে ৬ বার আমাকে জাতীয় চলচ্চিত্র প্রদান করে আরও ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করা হলো।

এতবার সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়ার তেমন চাওয়ার কিছু থাকে না। লক্ষ্যটাও ভিন্ন হয়। সেক্ষেত্রে কবির বকুলের পরবর্তী লক্ষ্য কী?

ওই যে বললাম, আমি কোনো কিছু পাবো এটা ভেবে গান লিখি না। নিরলসভাবে গান লিখছি, লিখে যাবো। একটি সিনেমায় নানা ধরনের না থাকে, সেখানে হয়তো একটি জায়গায় ভালো গান লেখার সুযোগ থাকে। আমি সেই সুযোগের অপেক্ষায় থাকি এবং চেষ্টা করি সুযোগটি কাজে লাগানোর।

কিছু পুরস্কার নিয়ে কুটতর্ক আমরা শুনেছি। সেই সমালোচকদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?

কোনো পুরস্কারই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। এটা থাকবেই। যেমন ধরুন আমার গানটি। একটি গানে ৫টি ক্যাটাগরি থাকে এবং আমার গানটি কিন্তু সবগুলো ক্যাটাগরিতেই পুরস্কার পেয়েছে। জুরি বোর্ডের সবাই দেখে যোগ্য মনে হয়েছে বলেই কিন্তু মার্কস দিয়ে সেরা নির্বাচন করেছেন। ৫টি ক্ষেত্রেই যেহেতু গানটি পুরস্কৃত হয়েছে সেখানে এটা বিতর্কের কিছু থাকার কথা না। তবে হয়তো কারও গানটি ভালো লাগেনি বলে তারা বিতর্ক তৈরি করেছেন।

ইদানিং সিনেমা কম নির্মিত হওয়ায় আপনাদের গান লেখার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এতে সিনেমার গানের ভবিষ্যতে কোনদিকে যাচ্ছে?

সিনেমার গানের অবস্হা সবসময়ই ভালো ছিল, এখনও আছে। কারণ দিনশেষে সিনেমার গানগুলোই থেকে গেছে এবং থাকবে। হ্যাঁ, এখন হয়তো সিনেমা কম হওয়ায় গান কম হচ্ছে। তবে এই কম গানের মাঝেও ভালো গান করা সম্ভব।

সিনিয়র এবং সমসাময়িক অনেকের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন। সেই জায়গা থেকে তরুণ পরিচালকদের সঙ্গে সম্পর্কগুলো কেমন?

তরুণ পরিচালকদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেমন তার প্রমাণ পুরস্কার পাওয়া এই গানটি। ইমরানের সঙ্গে গানটি আমি করেছি। আমার সৌভাগ্য হয়েছে, প্রয়াত সত্য সাহা, আলাউদ্দিন আলী, আলম খান, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, সেখ সাদীসহ অনেক মতো গুণী মানুষের সঙ্গে কাজ করার। পাশাপাশি আমার সমসাময়িক শওকত আলী ইমন, ইমন সাহাসহ অনেকের সঙ্গে কাজ করেছি। এরপর হাবিব, হূদয় খানসহ এ প্রজন্মের অনেকের সঙ্গেই কাজ করছি। আমি চেষ্টা করি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে চলার।

বাংলা গানের মান নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। আপনার চোখে বাংলা গান কেমন দেখছেন?

আমি তো বাংলা গানের মান ভালোই দেখছি। নতুন যারা গান লিখছেন অনেক ভালো করছেন। আমি মনে করি, যারা মান নিয়ে কথা বলছেন তারা বাংলা গানই শোনেন না। শুনলে নিশ্চয় তারা এমন কথা বলতেন না।

ইদানিং কাব্য মূল্যহীন অনেক গানই ভাইরাল বনে যাচ্ছে। এই চর্চা আপনাদের মতো গীতিকারকে বিব্রত করে কি-না?

ভাইরাল কোন জিনিস হচ্ছে সেটা আগে দেখতে হবে। তৃতীয় শ্রেণির জিনিসও ভাইরাল হয়। ভিউ বা ভাইরাল গুনে আসলে কোনোকিছুর মান বিচার করা যায় না। তাই ভাইরাল নিয়ে কিছু বলা নেই!

নতুনদের গানের প্রতি আগ্রহ কেমন দেখছেন?

আমি তো নতুনদের নিয়ে আশাবাদী। এ প্রজন্মের অনেক গীতিকার, সুরকার, শিল্পী খুবই ভালো করছেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ