‘আমিও একজন ফাস্ট বোলার’

আপডেট : ০১ জুন ২০১৯, ২১:৫৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

আন্দ্রে রাসেল—ক্যারিবিয়ান পেস বোলিং অলরাউন্ডার। যদিও সম্প্রতি ক্রিকেট বিশ্বে তার বড় পরিচিতি একজন বিগ হিটার, মারকাটারি ব্যাটসম্যান হিসেবে। বোলারদের তুলোধুনো করতেই পছন্দ করেন তিনি। ২২ গজে তার রুদ্রমূর্তি অনেকটাই ভুলিয়ে দিয়েছে রাসেলের বোলিং প্রতিভা। বোলিংয়ের দিক থেকে মিডিয়াম পেসার হিসেবেই পরিচিত তিনি। অবশ্য এই পরিচয় নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে রাসেলের।

গতকাল নটিহ্যাংমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর ‘মিডিয়াম পেসার’ ট্যাগ নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন এই ক্যারিবিয়ান। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে রাসেল বলেছেন, আমিও একজন ফাস্ট বোলার। নিজেকে মিডিয়াম পেসার মানতে নারাজ তিনি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে তিন ওভারের স্পেলে ৪ রান দিয়ে দুই উইকেট তুলে নিয়েছেন রাসেল। রয়েছে একটি মেডেনও। ইনিংসের শুরুতে পাকিস্তানের টপঅর্ডারকে নাড়িয়ে দেয়ার পেছনে বড় অবদান রয়েছে তার। ম্যাচের পর পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদও বলেছেন, রাসেলের ভয়ঙ্কর স্পেলটা খেলার গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছিল।

শুধু গতির ঝড় নয়, বাউন্সারও মেরেছেন রাসেল। তার বাউন্সারের শিকার হয়ে ফিরেছেন ফখর জামান ও হারিস সোহেল। তিন ওভারের মধ্যে ১৫টি শর্ট বল করেছেন তিনি। বোলিংয়ে গতিও ছিল ১৪৫ কিমি.। এমন আগুনঝরা বোলিংয়ের মনের ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাসেল বলেছেন, ‘আমি একজন ফাস্ট বোলার। অনেকেই বলেন আমি দলে শুধু একজন বিগ হিটার হিসেবেই থাকি, কিন্তু তারা ভুলে যান যে আমি একজন ফাস্ট বোলার। আমি মনে করি তারা আমাকে অবমূল্যায়ন করে। গত কয়েক বছর ধরে আমি খুব বিরক্ত যে, মানুষ আমাকে মিডিয়াম পেসার বানিয়ে ফেলেছে। বিগ স্ক্রিনে আন্দ্রে রাসেল আসছে বলা হয়, তখন মিডিয়াম পেসার লেখা হয়, আমি তা দেখেছি।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘সত্যি বলতে আমি বিরক্ত। যারা এর জন্য দায়ী তাদের উচিত মিডিয়াম পেসার থেকে ফাস্ট বোলার করে দেয়া।’

ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার এই পরিবর্তনের সপক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেছেন। রাসেল বলেছেন, ‘দিন শেষে আমি অন্তত তাদের দেখিয়েছি আমি ঘণ্টায় ৯০ মাইল গতিতে বল করতে পারি। আমার মতে, আমার নামের পাশে তাদের কিছুটা হলেও সম্মান দেখানো উচিত।’

আগামী ৬ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাউন্সার বৃষ্টি নামানোর আশা করছেন রাসেল। স্মিথ-ওয়ার্নারদের হুমকি দিয়ে এই ক্যারিবিয়ান বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া পেস মোকাবিলায় ভালো। তবে আক্রমণাত্মক হলে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। ওরা পুল ও হুকে ভালো তবে জায়গামতো বাউন্সার দেওয়ার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। আমি কোনো কিছু পাল্টাব না। আক্রমণাত্মক বোলিং করে যাব।’

যদিও কিছুটা হাঁটুর ব্যথায় ভুগছেন রাসেল। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ফিট হয়ে যাওয়ার আশা করছেন তিনি। দীর্ঘদেহী এই অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘এই হাঁটুর ইনজুরি নিয়ে আমি বছরের পর বছর খেলে যাচ্ছি। অনেক সময় খুব খারাপ লাগে। কিন্তু দিন শেষে আমি পেশাদার ক্রিকেটার। আমি জানি আমাকে কি করতে হবে। আমার মনে হয় বিরতিটা যথেষ্ট হাঁটু স্বাভাবিক অবস্থায় আসার জন্য।’