পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটারের পর কারা হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভরসা? চিন্তা, দুর্ভাবনার অন্ত নেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। তরুণদের অধারাবাহিকতা, জাতীয় দলে স্থায়ী হতে না পারাই দুশ্চিন্তায় রূপ নিয়েছিল। তবে সর্বশেষ কয়েকটি সিরিজে চোখ রাখলে অবশ্য সবার মাঝে আস্থা, বিশ্বাস ফেরার কথা। ২২ গজের পারফরম্যান্সে ভরসার পদচিহ্ন রেখে যাচ্ছেন তরুণেরা। সিনিয়রদের পাশাপাশি বাংলাদেশের জয়ের নায়ক বনে যাচ্ছেন তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিয়ারা। যেন নূতনের কেতন উড়ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে।
গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হতাম সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে খাদের কিনার থেকে টেনে তুলে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছিলেন আফিফ-মিয়া। ৪৫ রানে ৬ উইকেট পতনের পর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ১৭৪ রানের রেকর্ড জুটি গড়েছিলেন তারা। দুজনই হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন দাস, হাফ সেঞ্চুরি ছিল মুশফিকুর রহিমের। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানের নিষ্প্রভতার পরও ২-১-এ সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ দল।
শুধু দেশের মাটিতে নয়, বিদেশেও বাংলাদেশের জয়ের রূপকার তরুণ ক্রিকেটাররা, যার জলজ্যান্ত উদাহরণ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদের দুরন্ত বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। কেটেছে ২০ বছরের বন্ধ্যাত্ব। ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে ২-১-এ সিরিজ জিতেছে টাইগাররা।
যেখানে গত জানুয়ারিতে প্রোটিয়াদের এই দলটার কাছে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল কোহলি-রোহিতদের ভারতীয় দল। প্রোটিয়াদের হারিয়ে আইসিসি ওডিআই সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে আছে বাংলাদেশ (১২০ পয়েন্ট)। ২০২৩ বিশ্বকাপে টাইগারদের সরাসরি অংশগ্রহণ এখন প্রায় নিশ্চিত।
সফরে তিন ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজ-সেরা তাসকিন। বুধবার শেষ ওয়ানডেতে ডানহাতি এই পেসার একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন প্রোটিয়াদের। সেঞ্চুরিয়নে ৩৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নূতনের কেতনই ওড়ালেন তিনি।
সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও সাকিবের সঙ্গে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন তরুণ লিটন দাস ও ইয়াসির আলী রাব্বি। বোলিংয়ে তাসকিন-শরীফুল ৫টি উইকেট নিয়েছিলেন। মিরাজ ৪টি উইকেট নিয়েছেন। ওয়ান্ডারার্সে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ৩৪ রানেই শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। সাকিব-তামিমদের ব্যর্থতার দিনে দলের ত্রাতা হয়ে ধরা দেন আফিফ, মিরাজরা। আফিফের হাফ সেঞ্চুরিতে লড়াকু স্কোর গড়েছিল টাইগাররা। জয় না এলেও তরুণেরা বার্তা দিতে পেরেছেন যে, বাংলাদেশের হাল ধরার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।
এমন সিরিজ জয়ের পর হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর মনে বিশ্বাস এসেছে, বাংলাদেশের এই দলটা বিশ্বকাপ জিততে পারে। গতকাল জোহানেসবার্গে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তামিম। ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ‘রাসেল (ডমিঙ্গো) খুব ভালো একটা কথা বলেছে, ম্যাচ শেষে আমরা যখন ড্রেসিংরুমে কথা বলি, তখন সে বলেছে, এই সিরিজ জয়ের পর তোমরা যদি বিশ্বাস না করতে না পারো যে তোমরা বিশ্বকাপ জিততে পারবে না, তাহলে আর কোনো কিছুতে বিশ্বাস করবে না। আমার মনে হয় খুব ভালো একটা বার্তা ছিল এটি।’
সব ফরম্যাটেই দেশের পেস আক্রমণের প্রাণভোমরা এখন তাসকিন। দেশের সেরা পেসারও তিনি। ২৬ বছর বয়সি এই তরুণ এবার তাকাচ্ছেন আরো সুদূরে। মাশরাফি বিন মুর্তজার মতোই ফাস্ট বোলিংয়ে কিংবদন্তির আসনে যেতে চান তাসকিন।
তিনি বলেছেন, ‘ফাস্ট বোলারদের মধ্যে তিনি (মাশরাফি) কিংবদন্তি। আমিও চাইব যেন একসময় বাংলাদেশের লিজেন্ডারি ফাস্ট বোলার হতে পারি এবং এটার জন্য অনেক পথ বাকি। কিছু ম্যাচ ভালো হবে, কিছু ম্যাচ খারাপ হবে, আমি প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে চাই। সামনেও আমি একই প্রক্রিয়ায় আগাব।’
