বরেন্দ্র অঞ্চলের দৃষ্টিনন্দন ‘তালসড়ক’ যেন পটে আঁকা ছবি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২২, ০৪:০১

খরা ও তাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নওগাঁর নিয়ামতপুরের বিভিন্ন সড়কে লাগানো হয়েছে তালগাছ। এই তালগাছগুলোই বর্তমানে বরেন্দ্র অঞ্চলের রুক্ষ প্রকৃতির মধ্যে প্রশান্তি ও শোভা বর্ধনকারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় এরকম একটি সড়ক ‘তালসড়ক’ হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে মানুষের মধ্যে। সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজ মাঠের বুক চিরে নওগাঁ নিয়ামতপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হাজ্বীনগর ইউনিয়নের তালতলী মোড় থেকে ঘুঘুডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত সড়কটি দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার। সড়কের দুই ধারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি তালগাছ। সংখ্যা অনুমান প্রায় হাজার খানেক। আর এসব গাছে ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। এ যেন কবিতার পটে আঁকা ছবি। কোন আগন্তুক এই সড়কে উঠেই বিমোহিত হয়ে যায় এক অপার্থিব সৌন্দর্যে। প্রকৃতির সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে তালগাছগুলো।

তালগাছ শুধু যে উচ্চতায় সব গাছকে ছাড়িয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। বহুবিধ ব্যবহারিক কারণেও সেসব গাছকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গেও তালগাছ জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। এক সময় তালপাখার বাতাস না হলে মন জুড়াত না। তালের ডিঙি ছাড়া চলাচল করাই যেত না কোন কোন এলাকায়। বর্তমানে এসবের ব্যবহার কমেছে। কিন্তু আজও তালের পিঠা, গুড়ের পায়েস কিংবা তালের রুটি না খেলে বাঙালির মন জুড়ায় না। আর বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে তালগাছের তো বিকল্প নেই। তাই এখনো বিভিন্ন সড়কের পাশে, বাড়ির পাশে লাগানো হচ্ছে তালগাছ।

এমনই ঐতিহ্য আর উপকারিতার কথা ভেবে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একসময় প্রচুর তালগাছের চারা রোপণ করেছিলেন বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি। তাঁর লাগানো সেই তালগাছগুলো পরিচর্যা আর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় সড়কের দুই ধারে সৌন্দর্যবর্ধন করছে। জানা যায়, বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার হাজ্বীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকার সময় এই তালগাছগুলোর চারা রোপণ করেন। একই সময়ে তিনি ইউনিয়নের অন্যান্য সড়কেও অসংখ্য তালগাছের চারা রোপণ করেছিলেন। মন্ত্রীর বাড়ি এই সড়কের পার্শ্ববর্তী শিবপুর হওয়ায় সেই সময় তাকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যেতে হতো এই সড়কপথেই। সে কারণেই হয়তো সড়কটি ছিল তার নজরদারিতে। যা আজ বরেন্দ্র অঞ্চলের দৃষ্টিকাড়া তাল সড়কে পরিণত হয়েছে।

ঘুঘুডাঙ্গার ষাটোর্ধ্ব মুরব্বি সিরাজুল ইসলাম জানান, তারা এখন এলাকার বাইরে পরিচিত হন এই সড়কটির নাম দিয়ে। তিনি আরো জানান, ভাদ্র মাসে তাল পাকার সময় তাল কুড়াতে এ সড়কটি থাকে স্থানীয় বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েদের পদচারণায় মুখরিত।

ইত্তেফাক/এসটিএম