সেমিনারে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
মানহীন ভেজাল ও নকলওষুধ বিক্রির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রতি কোনো অনুকম্পা দেখানোর কারণ নেই। তাদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি যৌক্তিক। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের জন্য অনৈতিকভাবে ওষুধ নকল করে সরবরাহের মাধ্যমে মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নিরাময়ের আশায় ওষুধ খেয়ে তাই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শুধু ওষুধই নয়, আমাদের দেশে ভেজাল নেই এমন কোনো পণ্য পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ। ভেজাল নিয়ে দেশে একটা ভয়ংকর পরিস্থিতি চলছে। তার থেকে পরিত্রাণ জরুরি। গতকাল আয়োজিত সেমিনারে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি গোলাম রহমান এসব কথা বলেন। কাওরানবাজারের ওয়াসা ভবনস্থ এটিএন বাংলার কার্যালয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি’।
সেমিনার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন। এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন লাজ ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লুত্ফর রহমান, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) মোতাহার হাসান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তাশিক আহমেদ প্রমুখ।
সেমিনারে নিরাপদ ওষুধ বিপণন নিশ্চিতকরণে ১০ দফা সুপারিশ করা হয়। অন্যতম সুপারিশগুলো হলো— নকল, ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও মানহীন ওষুধ সরবরাহকারী চক্রের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করা, নিরাপদ ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান ও জনবল বৃদ্ধি করা, নকল ও ভেজাল ওষুধ উত্পাদন ও বাজারজাত ঠেকাতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা, ফুটপাথ, পার্ক, গণপরিবহনসহ পাবলিক প্লেসে সকল ধরনের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা।
