প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী থেকে বাড়ির পানে ছুটতে শুরু করেছে লাখ লাখ মানুষ। আর ঘরমুখো এসব মানুষের অধিকাংশেরই ভরসা বাস-ট্রেন ও লঞ্চ। গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট লঞ্চ ঘাটে ছিল ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়। তবে সংশ্লিষ্টদের অনেকের ভাষ্য, সাধারণ ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটিতে যে চাপ থাকে যাত্রীদের, তার চেয়ে যাত্রীচাপ একটু বেশি। রবি ও সোমবার ট্রেন, বাস ও লঞ্চে উপচে পড়া ভিড় হবে।
গত ২৩ মে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পর যারা ট্রেনের কাঙ্ক্ষিত টিকিট হাতে পেয়েছিলেন, তারাই গতকাল ঢাকা ছেড়েছেন। তবে গতকালও কয়েকটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে দুর্ভোগ পোহান উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা। তবে স্বস্তিতে ঢাকা ছাড়ছেন চট্টগ্রাম, সিলেটসহ অন্য অঞ্চলের ট্রেন যাত্রীরা।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল হক জুয়েল বলেন, ‘যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকায় শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। আগামীকাল (আজ) রবিবার থেকে আর ভোগান্তি থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৫ ট্রেন ছেড়ে গেছে। রংপুর এক্সপ্রেস ৩ ঘন্টা লেটে গেছে। এর আগের দিন শুক্রবার ৭ ঘন্টা দেরিতে ছেড়েছে। রেলপথমন্ত্রী মহোদয়ের আশ্বাসের ভিত্তিতে আজ (গতকাল) আমরা বিকল্প রেক দিয়ে চালাচ্ছি। সকাল ১০টার দিকে ট্রেনটি ছেড়ে গেছে।’
এদিকে বাড়ি ফিরতে সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভিড় জমান দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। নির্দিষ্ট সময়ে লঞ্চ না ছাড়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান অনেকেই। দক্ষিণাঞ্চলগামী প্রতিটি লঞ্চই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ২১৫টি লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে টার্মিনাল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
